আমি ও তুমি, কলমে - সালেক উদ্দিন
মাইক্রো ফিকশন (অনুগল্প)
আমি ও তুমি
সালেক উদ্দিন
পাহাড়ের চূড়ায় একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর। সেখানেই বাসন্তীর একাকী বসবাস। বাইরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া—ঝড়-বৃষ্টিতে চারপাশ অস্থির। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমেছে।
হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে চমকে ওঠে বাসন্তী। অকারণেই মনে পড়ে স্বপনের কথা। অনেকদিন ধরে তারা পরস্পরকে দেখে এবং এক ধরনের নীরব বোঝাপড়া জমে উঠেছে তাদের মধ্যে।
আবার কড়া নাড়ার শব্দ।
বাসন্তী জিজ্ঞেস করে, “কে তুমি?”
বাইরে থেকে উত্তর আসে, “আমি। বাইরে বৃষ্টি—দরজাটা খুলবে কি?”
স্বপনের কণ্ঠ চিনতে ভুল হয় না তার। তবু কিছুক্ষণ নীরব থাকে বাসন্তী। তারপর ধীর স্বরে বলে,
“আমার ঘরটি খুব ছোট। দু’জনের জায়গা হবে না। তুমি চলে যাও।”
দরজার ওপাশে শব্দ থেমে যায়। শুধু বৃষ্টির শব্দ বাড়তে থাকে।
সময় পেরিয়ে যায়—কতদিন, তা বাসন্তী নিজেও গুনে রাখেনি।
আবার এক ঝড়ের রাতে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।
“কে তুমি দরজায়?”—আগের মতোই প্রশ্ন।
ওপাশ থেকে ভেসে আসে উত্তর,
“দরজায় দাঁড়িয়ে আছি—তুমি। বাইরে বৃষ্টি, দরজাটি খুলবে কি?”
বাসন্তীর ভেতরে চিন চিন করে একটি অপরিচিত শব্দ হয়। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায় সে। দরজা খুলে দুহাত বাড়ায়। বলে,
“ভিজে যাবে তো, ভেতরে আসো। ঘরটি ছোট হলেও—জায়গা অনেক বেশি।”
(ত্রয়োদশ শতকের বিখ্যাত পারস্যের সুফি সাধক, দার্শনিক ও কবি জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমির একটি কাব্যাংশ এই অনুগল্পটি লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে)
লেখক পরিচিতি : সালেক উদ্দিন (জন্ম: ১৯৬০) একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, কবি, কলামিস্ট ও জনবুদ্ধিজীবী। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা ও সাহিত্য প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির একজন জীবন সদস্য। তাঁর রচনা ব্যক্তি-জীবন ও সামষ্টিক বাস্তবতার অন্তর্লীন টানাপোড়েনকে অনুসন্ধান করে। কথাসাহিত্য, কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধে তিনি স্মৃতি, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদার প্রশ্নগুলোকে গভীরভাবে অন্বেষণ করেন।
