মেঘেদের কান্না, কলমে -আলী সোহারব

 











মেঘেদের কান্না

আলী সোহারব


 সকাল হতে মৃশল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে, চারিদিকে যেন আঁধার নেমেছে কিছুই দেখা যাচ্ছে না, টিনের চালে বৃষ্টি টিপটাপ পড়ে বাজনার শব্দের মতো সুর তুলে গড়িয়ে সামনে যে পুকুরটা ছিল স্রোতের ধারা নেমে পানিতে যেয়ে মিশে যাচ্ছে, মাছ গুলি সেই স্রোতধারা পেয়ে আনান্দে যেন মাতোয়ারা। লামিমা আর সোহাগ তারা দুই ভাই বোন, লামিমা ক্লাস টেনে পড়ে আর সোহাগ ক্লাস ফাইভে পড়ে। তারা এই বৃষ্টির ধারা দুই নয়ন ভরে উপভোগ করছে। বেলা দশটা বাজে এতো জোরে বৃষ্টি হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। পাশ দিয়ে কেহ যদি যায় চেনার কোন উপায় নাই। পাশের গ্রামের ছলিম লামিমাদের সাথে একই ক্লাসে পড়ে। তার মায়ের প্রচন্ড জ্বর ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রী হবে। ডাক্তারের কাছে যেতে হলে লালিমাদেরর বাডির পাশ দিয়ে যেতে হয়। বৃষ্টির মধ্যে ছলিমকে দেখে ওর ছোট ভাইকে বললো, ছলিম যাচ্ছে না? ছোট ভাই বলে হ্যাঁ তাইতো। লামিমা আর তার ছোট ভাই সোহাগ ছলিমকে দেখে লামিমা বললো এই ছলিম ছলিম? প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে ভিজতে তুমি কোথায় যাচ্ছো? ছলিম তখন বলে কে লামিমা? তখন সে বলে এতো প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে কোথায় যাচ্ছিস? ছলিম বলে আর বলিস না, আমার মায়ের না প্রচন্ড জ্বর উঠেছে। তাই ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি ঔষধ আনতে। জানিনা মার যে কি হবে। আমার বাবা নাই অনেক আগে মারা গেছে। এখন আমার একমাত্র মা'ই বেঁচে আছে। সেই আমার পড়শুনার খরচ চালায়, এই অবস্থায় আমার কাছে কোন টাকা পায়সা নাই। চারিদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ যে ভাবে বেড়েছে সাবধানে থাকতে হবে। মা যদি মারা যায় তাহলে আমি এতিম হয়ে যাবো। কি যে করি আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা। লামিমা বললো ছলিম, তুমি মাকে নিয়ে বেশি চিন্তা করো না। সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করো আর আমরাও দোয়া করি। তোমার মা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন। আর এই টাকা টা নিয়ে যাও, এই বলে একশত টাকার এক খানা নোট ঘরের ভিতর হতে এনে দিলো। আর বললো সাবধানে যেও, দেখনা মেঘেরা যখন কাঁদে তখন এই ধরণীতে বৃষ্টি হয়ে নামে।।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url