উমর ফারুক - এর তিনটি কবিতা
চোখ
উমর ফারুক
ঝাপসা চোখ হাত দিয়ে দেখছে
চোখে নেই জ্যোতি,
অন্ধকার স্বর্গ থেকে ঝরছে বৃষ্টি ।
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদগ্ধ বিকেল
একটি অন্ধকার দিবসে ঢেকে গেছে রাত
সবুজ পাতার মত সজীব
একটি বাল্যকালের বিচিত্র বিশ্ব
অরাজক অতীতে খুঁজে পেয়েছে সুখ ।
ভিজিয়ে দিচ্ছে চোখ ভোরের শিশির
একটি কিংবদন্তি চরিত্র রূপ
চোখ ফুটিয়ে তুলেছে একটি নির্জন দ্বীপ
একটি সুন্দর বালিয়াড়ি শুয়ে আছে ।
কলম তুমি লিখে যাও একাকী
জীবনের শেষ প্রান্তে ছড়িয়ে দাও আলো।
ঘুম
উমর ফারুক
ঘুম আমার বাঁধন খুলে দিয়েছে
আমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে
ঘুম হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছে
গভীর রাত থেকে কাক ভোর পর্যন্ত
দুই চোখের পলক শুষ্ক হয়ে আছে
দুই কাঁধের শিয়রে দাঁড়িয়ে দুই পাহারাদার
ঘুম আমার মনে মনে জাল বিধিয়ে রেখেছে
যেন আমি স্বপ্ন দেখতে না পারি
নির্জন দ্বীপে দাঁড়িয়ে আছে
নৌকার পালের মতো ছুটে যাচ্ছে বহুদূর
আমাকে বিষাক্ত করে তুলেছে
রাত বেড়ালের মতো পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে
ঘুম আমাকে স্পর্শ করেনা
কেনো এক পৈশাচিক স্বপ্ন নিয়ে ভাবছে।
পাগল
উমর ফারুক
আমরা যখন পাগল দেখি রাস্তায়
তাঁরা হাটে নির্দ্বিধায়
কত লোক টিটকিরি ছুঁড়ে আর হাসে
পাগল বলে সে পাগল নয়!
যারা পাগল তারা কি হাসে?
যারা হাসে ওরা কি পাগলের জমজ ভাই নয়?
একটি শুষ্ক খসখসে প্রাণী সম্পদ
নির্জীব প্রাণহীন মাতৃভূমিতে বড় হয়
কিন্তু পাগলের মতো উৎকণ্ঠায় ভাসে
পরিপূর্ন মানুষের অবয়ব তৈরি হয়নি এখনো।
