মোহা: রেজাউল করিম - এর একগুচ্ছ কবিতা
শিক্ষা গুরু
মোহা: রেজাউল করিম
শিক্ষা গুরুর কথা ভুলেনি
এখনো মনে পড়ে,
যখন থাকি একা একা
আমার শোবার ঘরে।
শাসন করেন ও ভালোবাসেন
নিজ সন্তানের মত,
কেমন করে ভুলি তাদের
জীবনে পেয়েছি যত।
সব শিখাতেন যত্ন নিয়ে
সহজ হতো পড়া,
তাঁদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদে
জীবন আমার গড়া।
সত্য পথের সত্য সন্ধান
পেয়েছি তাঁদের কাছে,
কোন আসনে বসাই আমি
আমার বুকের মাঝে।
শিক্ষা গুরুর দীক্ষা ছাড়া
জীবন না হয় সফল,
নিজেকে বেশি বড় ভাবা
জীবন হয় বিফল।
শিক্ষা গুরুর শিক্ষা পেয়ে
দেশকে করেছি জয়,
তাঁদের আশীর্বাদ থাকলে পরে
হবে না পরাজয়।
বাল্যকালে মোর বাল্য পাঠে
শিক্ষা আমার শুরু।
অক্ষর জ্ঞানে পূর্ণ করেছেন
সেতো আমার শিক্ষাগুরু।
সৎ সাহসী ও ন্যায়পরায়ণ
হতে শিখিয়েছেন যিনি ,
আজ তাঁকে প্রনাম জানাই
শিক্ষা গুরু তিনি।
গঙ্গা নদীর ভাঙন
মোহা: রেজাউল করিম
পাগলাঘাট বাড়ি মোর
গরিব ঘরের সন্তান,
গঙ্গা ভাঙ্গনের দাপটে
গেল মোর বাসস্থান।
এক ছেলে দুই মেয়ে
এখন আমি নিরুপায় ,
কি করি কোথা যায়
নাহি পাই উপায়।
ভেবেছিলাম ছেলে মেয়ে নিয়ে
গড়বো সুখের সংসার,
হঠাৎ গঙ্গা ভাঙন এসে
করে দিল ছারখার।
কর্ম -ধর্ম দুই গেল
গঙ্গা নদীর ভাঙনে,
দিবা-নিশি পার করি
বিস্তৃত খোলা গগনে।
টাকা নাই পয়সা নাই
খাবার কিসে কিনি,
গঙ্গা ভাঙনে কেড়ে নিলেন
সৃষ্টি কর্তা যিনি।
ফসল-পানি সব গেল,
গঙ্গা নদীর জলে,
মনের স্বপ্ন চাপা পড়লো
গঙ্গা নদীর তলে।
সব কিছু হারিয়ে আমি
ঘুরি পথে পথে,
গঙ্গার ভাঙন তুলে দিল
ভিক্ষার ঝুলি হাতে।
নাস্তানাবুদ নেপাল
মোহা: রেজাউল করিম
চারিদিক পাহাড় আর পাহাড়
নেপাল ক্ষুদ্র দেশ,
হড়পা বানে নিল প্রাণ
এক মূহুর্তে নিঃশেষ।
জলের ঢেউ দিলো গুড়িয়ে
মানুষের ক্ষিপ্ত পরিবেশ,
প্রলয় ঘটল নেপাল জুড়ে
চোখের পলকে শেষ।
শত শত গেল প্রাণ
অজানা এক দেশে,
চোখের জলে বুক ভাসিয়ে
চলছে ফকির বেশে।
হড়পা বানে হল নাস্তানাবুদ
ছোট্ট দেশ নেপাল,
জলের ঢেউয়ে ভেসে গেল
গোরু ছাগলের পাল।
প্রকৃতির দাপটে হারিয়ে গেল
নিজের নিজের আপন,
শত শত মানুষ হড়পা বানে
আজ হল দাফন।
