আজমিরা খাতুন - এর গুচ্ছ কবিতা
এলো বর্ষা এলো
আজমিরা খাতুন
গগনে নাচিছে আষাঢ়,
বৃষ্টি নূপুর পরে ।
চাষিরা বাঁধিছে জমির আল,
হস্তে খনিত্র ধরে ।
সৃষ্টি মাঝে আশীর্বাদ স্বরুপ,
ঝরে আষাঢ়ি বাদলের রিনিঝিনি ধারা ।
মুচিছে গ্রীষ্মের দাবাদাহ গ্লানি,
দর্দুর ডাকে ঝিঁঝিঁদের সাড়া ।
শুকনো ডালে কচি পাতায়,
উঠলো ফুটে হাসি ।
ধানের চারা করলো রোপণ,
মাটির বুকে চাষি ।
বন ভূমির গাছ গাছালি,
সাজিছে নতুন বেশে ।
মেঘের ফাঁকে রবির উঁকি,
শীতল পরিবেশে ।
এলো বছর ঘুরে বর্ষা ফিরে,
জল থইথই নদী খাল ।
সবুজ শ্যামল শস্য ক্ষেতে,
দুলতে মারুত হয় মাতাল ।
শ্রাবণ ধারায় বন্যা ভাষি,
ফুঁসিছে নদী ভাঙিছে বাঁধ ।
নদী তটের পল্লি বাসীর,
দুর্ভোগে সব স্বাদ বিষাদ ।
খুশির পাশে দুঃখ ভাসে,
বর্ষা এলে ভাই ।
কেউ বা রহে দালান কোঠায়,
কেউ বা হারায় ঠাঁই ।।
সুর প্রেমিকা
আজমিরা খাতুন
সুর দাও মোর কণ্ঠে খোদা
সুরে আমি ভাসতে চাই,
সুরে আমার বাঁচা মরা
সুর ছাড়া না কিছু চাই।
দুঃখ কষ্ট সামনে এলে
সুর দিয়ে যায় সান্ত্বনা,
কেউ বোঝেনা মনের ব্যাথা
সুর বুঝে যায় যন্ত্রণা।
সুখের সময় খুশি মনে
সুরে গাহি গান,
সুখ জড়ানো গান গাহিয়া
ভরে ওঠে প্রাণ।
সুর হলো মোর খাঁটি বন্ধু
সুর হলো মোর সাথী,
সুর প্রেমিকা হয়ে তো তাই
সুরের মালা গাঁথি।
পূর্ণিমার রাত
আজমিরা খাতুন
পূর্নিমারই চাঁদের আলো
মুছে দিলো রাতের কালো,
ঘুম ভেঙে এক নতুন ছবি
মুগ্ধ হয়ে দেখি সবি।
মন মাতানো চাঁদের আলো
ঘোর রজনী রাঙিয়ে দিলো,
বেল রজনীগন্ধা ফুটে
খসবু ছড়ায় মাঠে ঘাটে।
দেখতে দেখতে ভোর হইলো
কোকিল গাহে গান,
সাথে সাথে শুনতে পেলাম
মসজিদের আজান।
থপথপে এক বুড়ো দাদু
বাঁকা লাঠি ধরে,
গুটি গুটি হেঁটে চলে
মসজিদেরই ঘরে।
মন্দিরের শঙ্খ বাজে
শীতল বায়ু বয়,
ধীরে ধীরে চন্দ্র তখন
নিলো যে বিদায়।।
