অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় - এর তিনটি কবিতা
সুন্দরবন
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়
এখানে মেঘের ভেতর মেঘ
বৃষ্টির ভেতর বৃষ্টি
ঝড়ের ভেতর আরও ঝড়
জলের ভেতর আরও জল
জীবন যুদ্ধ বারোমাস।
ভাঙা চোরা সম্পর্ক
তবুও তার মধ্যে
ভালবাসার ভেতর ভালবাসা।
নদী পাড় জুড়ে ঘন অরণ্য
রৌদ্র আলো অদৃশ্য
তবুও সবাই এখানে আলো খোঁজে
বিন্দু থেকে বিন্দুতে...
কাদামাটি সংসার
ছিটে বেড়া ঘর
উঠোন জুড়ে বনফুল
কোন প্রত্যাশা নেই,
কোন চাহিদা নেই
একটা সরল উপত্যকা।
এখানে প্রতিটি গাছে
আঁকা আছে শেষ মানচিত্র ।
দূরতম দ্বীপ
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়
একটা সময়ে আমরা দুজন দুজনের কাছে ভীষণ ভাবে ছিলাম।
এখন দূরতম দ্বীপে দুজন। অকারণে এসে যায় ভাঙা মুহূর্ত।
এগুলো যোগ করে একসময় অনেক গল্প হয়ে গেছিল।
এখন সব ওগুলো অসমাপ্ত গল্পকথা।
কোথাও আর লেখা নেই।
আমাদের কেউ কাউকে খুঁজে পাই না।
এখন আমরা আর কেউ কারও ভেতর নেই।
স্মৃতিমেঘ মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমক দিয়ে যায়।
কখনও বৃষ্টি নামে ভিজে যাই।
জানি না তারও কি হয় কী না?
নির্ঘুমের অচেনা অতিথি
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়
কীভাবে মাঝে মাঝে একটা নির্ঘুম রাত কেটে যায়।
ঘুমের ভেতর কী যেন এসে যায়। চোখ খুললেই স্তব্ধতা।
সারাদিন একাজে ও কাজে দিন কাটে।
ক্লান্তি নামে। চোখ বুজি-
চোখ বুঝলেই সেই কী যেন এসে যায়।
চোখ খুললেই চলমান জীবন।
ছুটির দিনে, অবসন্ন দুপুরে যখন চোখ বুজে আসে তখনও সেই কী যেন এসে যায়।
চোখ খুললেই শুনি ঘুঘুর ডাক।
অত:পর বিকেল। সূর্য চলে যায়।
একটা দিনের সমাপতন।
তখনও চোখ বুজলেই কী যেন এসে যায়।
খুঁজতে থাকি-
ভাবি কী এসেছিল।
তখন আর কিছুই মনে পড়ে না।
অবশেষে শূন্যপথে দৃষ্টি ভাসাই।
তখনই মনে হয় -
ওগুলো মনে হয় দৃশ্যকথা।
©® অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, বেহালা কলকাতা -৭০০০৬০
