শরৎ , কবি - আলী সোহারব
শরৎ
আলী সোহারব
ভদ্র শেষে আশ্বিন এসে
শরৎ এলো নতুন বেশে।
কদম কেয়া শিউলি পিয়া,
ভিড়লো ঘাটে নৌকা খেয়া।
গায়ের বধু উঠলো তীরে,
যাবে বলে পিতার নীড়ে।
বারো মাসে ছয় ঋতু,
বাংলা বর্ষে হয় যেহেতু।
তার মধ্যে ঋতু শরৎ,
এই বিশ্বে বাংলা ভারত।
ধবল পলকে বকগুলি উড়ে,
যায় দিগন্তে ফিরবে নীড়ে।
সে দিকে চেয়ে ভেলু
শিকারি,
হাতছাড়া হয় যে তারি।
ভাটির টানে ঢেউয়ের তালে
নৌকা চলে কুলে কুলে।
মাঝি মাল্লা মন খুলে,
গান গায় আপন ভূলে।
যাবে তারা বহুদূর,
কন্ঠে ভাটিয়ালির সুর।
নদীর তীরে কাশবনে বসি,
কবি শিল্পী আর চাষী।
নিজ নিজ কল্পনায় ভাসি,
অবশেষে কহিল চাষী।
ধান দেখে তার বুক ভরে,
কবি কহিল তার পরে।
লিখবো এবার কবিতার বুলি,
শিল্পী কহিল ধরবো তুলি।
পল্লী বধু জলের ঘাটে,
গায়ের পথে যায় যে হেঁটে।
কলসি কাকে আনতে জল,
যায় সখিরা দলে দল।
ধানের ক্ষেতে দোলায় হাওযা,
মৃদমন্দ বয়ে যাওয়া।
তাই দেখে আমার মন,
নীরব থাকে অনুক্ষণ।
