এস এম এ সাদেক আলী'র একগুচ্ছ কবিতা


এস এম এ সাদেক আলী'র ফটো











সূর্য জয়ের অভিযাত্রা
এস এম এ সাদেক আলী


হেরে যাওয়ার নাম মানুষ নয়
ধুলায় মিলিয়ে যাওয়ার
ক্ষণস্থায়ী ধূলিকণা থেকেও
নয় তার  জন্ম।
মৃত্যু ? সে তো এক
মায়াবী কুয়াশার ছদ্মবেশ,
এক রহস্যময় গ্রহেলিকা!
ক্ষয়িষ্ণু দেহের সীমানা ছড়িয়ে
মানুষের চেতনা খোঁজে অমরতার এক অবিনশ্বর পথ।
জীবনের শেষ বাঁকেই লুকিয়ে থাকে মৃত্যুর উপর মানুষের চূড়ান্ত জয়ের গোপন রহস্য।
কখনো অভিমান এসে টান দেয় ভুল পথে,
চোখের অলক্ষে বন্ধ হয় সব দরজা - নিঃসঙ্গতা ঠেলে দেয় অন্ধকার গহ্বরে,
বুকের গভীর  ক্ষত গড়ে তোলে বিষাদের ঘর।
কিন্তু অভিযান?  সে তো থেমে থাকে না ভাঙ্গা বুকের খাঁচায় জ্বলে উঠে
এক অদম্য জেদ,
সংকল্পের আগুনে ছাই হয়ে যায়
চেনা কালো মেঘ-
ফুটে উঠে এক নতুন ভোরের সূর্য।
পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা যত পাহাড়ি  অহংকার
সাহসের এক আঘাতেই হয় চূর্ণ-বিচূর্ণ! 
তৈরি হয় বিজয়ের এক নতুন রাজপথ। 
মানুষ কেবল অন্ধকারের দাস নয়,
সে এক আলোর দিশারী
অভিমান ভেঙে পা বাড়ায় অভিযানে  অদম্য সাহসের আগুন ছুড়ে
ছিনিয়ে আনে আকাশ চিরে
এক জলন্ত সূর্য




অতৃপ্তির ছায়া
এস এম এ সাদেক আলী

হায়  রে লভি মন,
এত আলো, এত জল,
এত ফুল আর ফল,
হাতের তালুতে জমা শিশির
আর ধানের সুবাসে জড়িয়ে মাঠ। তবু  কিসের এত ব্যাকুলতা,
কিসের এত অন্ধ দৌড়?
যা কিছু পেলে,
সব কিছু ফেলে
অনবরত উড়ে চলো
অজানা নক্ষত্রের পানে।
এ তো না পাওয়ার এক অতৃপ্তি!
সকালের রোদ গায়ে মেখেই
ভুলে যাও রাতের নিঃসঙ্গ আঁধার
আর দীর্ঘশ্বাসের কথা।
যে রূপ, যে প্রেম তুমি পেয়েছো
তা কি কখনো দেখেছো?
তোমার অতৃপ্তির বহতা নদীতে  কিভাবে ভেসে যায় তোমারই প্রাপ্তির সাজানো সিন্ধুক?
নিঝুম প্রকৃতি ও থমকে দাঁড়ায় তোমার এই অতৃপ্তি দেখে।
পৃথিবীর এত সৌন্দর্য আর বিস্ময়ের ভিড়ে
কি দেবে তোমার পরিচয়,
তুমি কি বলবে, " তুমি এক শ্রেষ্ঠ জীব"?



হিম শীতল এ বসন্ত
এসএম এ সাদেক আলী


তুষারাবৃত এ প্রান্তরে- ভালোবাসার বীজ
জমাট বাঁধে
আশার কুঁড়ি ফুটে না,
রোদ  এসে তাই
ছায়া আঁকে।
ঠান্ডা হাওয়ায় উড়ে
আকুল আহ্বান,
ঠোঁটের কোণে জমে থাকে
না বলা কত কথা,
প্রেমের পরিণতি
কেবলই নীরব নির্বাসন,
মিছে খুঁজি স্পন্দনের
সুপ্ত দাবানল!
অনন্ত বরফে
চাপা পড়ে থাকে
ব্যাকুল দুটি চোখ,
স্পর্শেরা হারায় তাদের
চেনা উষ্ণতার পথ,
ঝরে পড়ে মায়া অশ্রু
জামার বেঁধে হয় পাথর,
থেমে যায়
প্রেমের চিরন্তন
বিজয় রথ।
ফুটে না ফুল,
জমে না প্রেম
থাকলো না তাই
বিরহে ঝরার ভয়।
প্রেমের পরিণতি
এক স্তব্ধ নিস্ততা
তাই একলা হৃদয়ে
সারাক্ষণ বিরাজ করে
  এক হিম শীতল শূন্যতা।




কবি পরিচিতি:
নাম :এস এম এ সাদেক আলী      
ডাকনাম: দুখুমিয়া ওরফে মধুমিতা
পিতা : হারুন অল  রশিদ,  মাতা :শহর বানু             
জন্মস্থান: এক ঐতিহাসিক গ্রাম- বিনোদ বাটি
থানা সাগরদিঘী •জেলা মুর্শিদাবাদ
বাসস্থান: গ্রাম- ভুরকুন্ডা
থানা সাগরদিঘী মহকুমা জঙ্গিপুর জেলা মুর্শিদাবাদ  
প:ব:
জন্ম :১৯৬০ সালের ১লা নভেম্বর
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: হাতে খড়ি-        
বিনোদ বাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তৃতীয়- চতুর্থ শ্রেণী -ভুরকুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়।                       
অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত- নাচনা মাদ্রাসা হোসেনিয়া।
দশম শ্রেণী পর্যন্ত- বোখারা হাজী জুবেদ আলী বিদ্যাপী।            
দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত -                     
বহড়া বহুমুখী আদর্শ বিদ্যালয়  কান্দি।
বি. এ,  জঙ্গিপুর কলেজ,  জঙ্গিপুর মুর্শিদাবাদ।       

কিছু কথা  :
এক নিরন্তর বাউলের কথা
যিনি শব্দের তুলিতে জীবনের রুক্ষ মরুভূমিকে সবুজ করতে জানেন, তিনি  কবি- এস এম এ সাদেক আলী
যার কাব্যিক পরিচয় কখনো  "সাদেক আলী" আবার কখনো এক ভুল নামের চিঠি থেকে পাওয়া এক মায়াবী নাম-
দুখুমিয়া থেকে মধুমিতা।
সত্তর দশকের সেই সোনালী সময়ে " শুকতারা" এবং সাগরদিঘী থেকে প্রকাশিত "কন্যান" ও মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে প্রকাশিত" মুরশিদাবাদ খবর "এর পাতা থেকে যে সাহিত্যের  বীজ বুনেছিলেন তা আজ এক ফুল ও ফলে পূর্ণ বৃক্ষ । মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির এই সন্তান নিজেকে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন মানবতার কবি হিসেবে। তার কবিতায় যেমন আছে প্রকৃতির শান্ত শীতল ছায়া, তেমনি আছে শোচিত মানুষের হৃদয়ের হাহাকার। তিনি বিশ্বাস করেন স্রষ্টার সন্ধান বাইরের কোন অরণ্যে নয়, বরং মানুষের কালবে বা  হৃদয়ের আয়না ঘরেই নিহিত।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url