কবিতা - চলি, কবি - সৈয়দ শীষমহম্মদ

 


কবি সৈয়দ শীষমহম্মদ ওরফে- ডাকু মীর ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা থানাস্থিত জলঙ্গী নদীর পশ্চিম-দক্ষিণ পাড়ে রঘুনাথপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত সৈয়দ বংশে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন, পিতা- কবি ও সমাজসেবী সৈয়দ আহাসান আলী, মাতা- সৈয়দা চাহাতুন্নেসা, চার ভাই দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ l মুঘল যুগে সম্রাটের আমন্ত্রনে আরব থেকে যেসব সৈয়দ উপাধী যুক্ত জ্ঞানী, গুণী দিল্লিতে এসেছিলেন ও এই দেশের উন্নতির জন্য নানা কাজে উচ্চপদে চাকুরি করতেন, সেই আরব থেকে আসা গুণীদের মাঝে একজন ছিলেন, এই শীষমহম্মদের  ভারতে আসা প্রথম পূর্ব পুরুষ, বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা নিয়ে উচ্চ শিক্ষিত বহুভাষাবিদ সৈয়দ মহম্মদ খাইরুল আলম। এরা সৈয়দ বংশধারী আরব থেকেই। ইনি দিল্লিতে এসে পরে মুর্শিদাবাদে নবাব পরিবারে শিক্ষকের চাকুরি নেন। তখন তাঁকে মীর উপাধী দেওয়া হয়। পরে এই দেশে এসে মিশে গিয়ে একদম এই দেশিয় হয়ে গিয়ে ভারতীয় মাটিতে অমৃত সুখ লাভ করেন। কবি শীষমহম্মদ  স্থানীয় সাঁকোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন ১৯৭১ সালে বন্যা ও পূর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধের কারণে রিফিউজি আসায়, অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই স্কুল শিক্ষায় অনীহা আসে ও পরবর্তীকালে স্কুলের পাঠ অনিয়মিত  হয়ে উঠলেও পরিবার ও প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করে পারিবারিক সূত্রে সাহিত্য সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে ওঠেন l

১৯৮২ সালে তরুণ বয়সে "শিশু সংকল্প" ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে খেলাধুলা সহ নাটকের টিম তৈরি করে সুনাম অর্জন করেন l

১৯৮৭ সালে "সোনালী প্রিন্টিং প্রেস" স্থাপন করে গ্রন্থ সম্পাদনা করতে থাকেন। কিন্তু চার বছরের মধ্যেই প্রেস উঠে যায়। তখন তীর্থ পর্যটনে বাহির হন এবং দীর্ঘ সময় যাবত সমগ্র ভারতবর্ষ পরিভ্রমনে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন l ১৯৯২ সালে "আদিত্য" নামক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন l কলকাতার দৈনিক "ওভারল্যান্ড"  সংবাদপত্র সহ বেশ কিছু সাপ্তাহিক, পাক্ষিক সংবাদপত্রে সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি মুর্শিদাবাদ জেলা সাংবাদিক সঙ্ঘের সক্রিয় সদস্য l

সৈয়দ শীষমহম্মদ বাচিক শিল্পী এবং মঞ্চ পরিচালক l নাটক-যাত্রাপালায় অভিনয় ও পরিচালনা করেন, ইউটিউব চ্যানেলে নাট্য আন্দোলনের একজন কর্ণাধার। বর্তমানে দুই বাংলার সর্ববৃহৎ নাট্যসংস্থা "পল্লীগ্রাম টিভি" চ্যানেলে অভিনয় করছেন l

পিতার নামাঙ্কিত সাহিত্যচর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, প্রতি বছর পরিবারের সহযোগিতায় সাড়ম্বরে সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত করেন এবং গুণীজনদের সংবর্ধনা সহ পুরষ্কার প্রদান করেন l পিতা ১৯৫৮ সাল থেকে "নবারুণ" ত্রৈ মাসিক সাহিত্য পত্রিকা শুরু করেছিলেন, পরে ১৯৯৭ সালে পিতার মৃত্যুর পরে নিজে সম্পাদক হন এবং দায়িত্ব পালন করছেন l

তাঁর চিন্তা ও কাজের সহযোগীতায় বেশ কিছু সাহিত্য পত্রিকা ভালো অবস্থানে এসেছে এবং অনেকেই সাহিত্য রচনায় এসেছে l তিনি একই সাথে সাহিত্য সংগঠক l বেশ কিছু সাহিত্য পত্রিকার সভাপতির পদ পালন করছেন  l কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ প্রতিবেদন ইত্যাদি রচনা করেন, বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, ওয়েবসাইট ও blogspot.com ইত্যাদিতে  প্রকাশ হয় l প্রকাশিত বই- কাব্যগ্রন্থ- জগৎ ঘর, বেহালাটা বেজেই চলেছে, ছড়ার বই- কাটা তালিকা, নওদার ইতিহাস, সু-বচন সংকলন, গল্প সংকলন, প্রবন্ধ সংকলন, সম্পাদনা- নিরক্ষর চারণ কবি পাতা আলী শেখের কবিতা সংকলন "মেঠোফুল জংলিলতা", কবি আমেদ আলীর "মুক্ত মনের মানুষ" l

বিভিন্ন সংস্থা থেকে সংবর্ধিত ও পুরস্কৃত হয়েছেন l অসহায় পশুপাখি ও দুস্থ রুগীদের জন্য নিবেদিত। ধর্ম নিয়ে পারিবারিক ভাবেই মুক্ত। তাই এলাকায় মুখ্য উদ্যোগে দুর্গোৎসব করেন। এই মুক্ত মনের জন্য তাঁকে নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় উনার বড় ছবি সহ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। খ্রীষ্টান ধর্ম নিয়েও আলাদা পড়াশুনা করেছেন শ্রদ্ধার সাথে। আবার পুরীর জগন্নাথ ধামসহ সমগ্র ভারতবর্ষে তীর্থ পর্যটন করেছেন l  এবং ইনার মুক্ত মন দেখে ব্রাহ্মণগনও পুজা দেবার ইচ্ছা পুরনে সহযোগীতা করেছিল। সব সময় বিশ্বের নানা বিষয় পড়তে ভালোলাগে। স্ত্রী- নুরজাহান বেগম, পুত্র ও পুত্রবধূ সহ ছোট ভাই চিরকুমার সাধক দীন মহাম্মদ মীর ও তার একমাত্র অসহায় বন্ধু বলাই চন্দ্র মন্ডলকে নিয়ে ছয় সদস্য একত্রে আশ্রমিক পরিবেশে পিতার কবি কুটিরে  বসবাস করছেন। স্থানীয় "নওদা সুভাষ বইমেলা" করেন, প্রতি বছর ২৩শে জানুয়ারী থেকে এক সপ্তাহ এই বইমেলা হয়। কমিটির এক মুখ্যজন। অন্যদিকে ২০১৭ থেকে "Potrika Nabarun" নামের একটা হোয়াসাপ গ্রুপ পত্রিকা করে বহুজনকে সাহিত্যের কাজে এগিয়ে দিয়েছেন। এখনো এইসব কাজ বর্তমান। পুরো পরিবারে, মুক্ত মনে শিল্প সংস্কৃতি নিয়ে থাকেন। কেউ সিনেমার নায়ক, কেউ কেউ পত্রিকার সম্পাদক, কেউ বা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কবি, কেউ সমাজসেবী।   


------------------------------ 


চলি 

সৈয়দ শীষমহম্মদ 


সব কিছু নিলো পিছু 

চলি একসাথে,

এ চলার শেষ নাই 

দিনে আর রাতে l


চলিতে-চলিতে পথ 

রূপ বদলায়,

পুনরায় চলিবার 

রসদ যোগায় l


শুধু চলি আর চলি 

দূর জানা নাই,

সময়ের হাত ধরে 

পথ খুঁজে পাই l


চলিতে না পারি যদি, 

চলি দেহ ছেড়ে,

শখের খোলসখানা 

পিছে থাকে পড়ে l


একাল সেকাল ছুটে

ওই কাল পানে,

মহাকালে ঠাঁই হয় 

জ্ঞানী জনে জানে l


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url