সম্পর্কের সেতু , রচনায়: প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল

 

প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল



কবি প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল এর পরিচিতি:

“আমি শব্দে খুঁজি আলো, জ্ঞানে গড়ি সেতু, মানুষের হৃদয়ই আমার ঠিকানা।”  

---- প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল

প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল, শব্দ ও বিজ্ঞানের ধারক ও বাহক এবং আলোকযাত্রী।

"মানুষকে ভালোবাসো, জ্ঞানকে ছড়াও, আর সৃজনশীলতায় গড়ো অমরত্ব।" এটা এক জীবনদর্শন, যা প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলালের পথচলার প্রতিটি বাঁকে জ্বলজ্বল করে।

১৯৫৭ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণের পর দিনাজপুরের সবুজ প্রান্তর থেকে শুরু হওয়া তাঁর যাত্রা পৌঁছেছে ঢাকার ব্যস্ত নগরীতে। এই মননশীল স্রষ্টা মূলত জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সাহিত্যকে একত্রে বুনেছেন মানবতার ছায়াতলে। তাঁর কর্মজীবন যেন এক দীপ্তিময় প্রদীপ, যার শিখা জ্বলে অধ্যাপনা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার ত্রিবেণীতে।

তিনি প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণায় তিন দশকেরও বেশি সময় নিবেদিত করেছেন। কীটতত্ত্বে জনস্বাস্থ্য ও কৃষি ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আজও দেশের গর্ব, আর বাংলা ভাষায় ১৪টি মাস্টার্স, অনার্স, এইচএসসি ও এসএসসি পর্যায়ের বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক রচনা করে তিনি জ্ঞানের দরজা খুলেছেন মাতৃভাষার সুরে।

তিনি কেবল বিজ্ঞানী নন, তিনি একজন কাব্যিক স্বপ্নশিল্পী। তাঁর কলমে ফুটে ওঠে জীবনবোধ, মানবতা, প্রেম ও প্রকৃতির অনন্ত রূপ। কবিতা, গান, রুবাইয়াত, প্রবন্ধ, উপন্যাস, সব শাখায় তাঁর কলমে জেগেছে। ত্রিশের অধিক গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন। তাঁর “জ্যোতির্ময় একুশ”, “মননশীল সৃজন”, “মোস্তফা গীতি”, "দারিদ্র্যের কশাঘাত", "মানবতার জাগরণ", "চেতনার আলো" এবং ইংরেজি ভাবানুবাদ সহ তিন খণ্ডের “রুবাইয়াত-ই-প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল” প্রতিটি সৃষ্টিই একেকটি আলোকস্তম্ভ।

বিটিভি ও বেতারের শিল্পীগণ কর্তৃক সুরারোপিত তাঁর গীতিকবিতা ও অসংখ্য সম্মাননা সাক্ষ্য দেয় যে তিনি সময়ের সাক্ষী ও সমাজের পথপ্রদর্শক।

প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলালের জীবন এক দীর্ঘ কবিতা, যেখানে কর্ম, ত্যাগ ও স্বপ্নের মিশ্রণে মানবতার শিখা চিরকাল দীপ্তিমান। 



সম্পর্কের সেতু 

রচনায় প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল 

কবি, লেখক, শিক্ষাবিদ ও কথা সাহিত্যিক 


গৃহের শোভায় স্নেহের সুবাস, মমতার ঘর খানি,

সুতোয় বাধা প্রেমের ঝর্ণা, শুকায় মনের পানি।

রক্তনদী শুকোয় না গো, কাগজ ভাঙে ক্ষণে,

শেকড় কাটলে বৃক্ষ মরে, জীবন নামের বনে। 


মায়ের আঁচল ভোরের শিশির, বাবা বটের ছায়া,

সেই আশিসে সূর্য হাসে, চেনায় পথের কায়া।

স্বামীর ডানা কেটে দিলে, হারিয়ে যায় গতি,

খাঁচার পাখি গান ভুলে যায়, মরে প্রাণের স্মৃতি। 


বন্ধুর সাথে ক্ষণিক আড্ডা, নদীর জোয়ার ধারা,

হাসি কাড়লে গড়ে ওঠে, অভিমানের কারা। 

ননদ যদি বোনের মতো, শ্বশুর-শাশুড়ি জন,

মানবতার পিদিম জ্বলে, ঐক্যে দীপ্তিময় মন। 

বিভাজনের রাজনীতিতে, টানলে ঘরে দেয়াল, 

ভাঙন নেমে হারিয়ে যায়, সুখের সবুজ খেয়াল।

সম্মানের দীপ জ্বলে যেথা, সেখানেই প্রেমের বাস,

স্বাধীনতার আলো নিভলে, নিভে সম্পর্কের শ্বাস। 


তাই সঙ্গীকে সঙ্গী রাখো, দিও না কারাবাস,

রক্ত-বন্ধন মান্য করলে, টিকে প্রেমের আভাস। 

জোরে টানা রশি ছিঁড়ে, ভাঙে সংসারের রথ,

সম্মান-স্বাধীন প্রেমই শুধু, রাখে জীবনের পথ। 


কপিরাইট আইনের সর্বস্বত্ব লেখক কর্তৃ ক সংরক্ষিত। 

দক্ষিণ বারিধারা, বাড্ডা, ঢাকা, বাংলাদেশ।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url