অলংকারের অন্তরালে, কলমে - ড. সাবিনা ইয়াসমিন
অলংকারের অন্তরালে
ড. সাবিনা ইয়াসমিন
নিশীথের নীল কূপে ডুবিয়ে দিলাম অহংকারের প্রদীপ,
জেগে রইল কেবল এক বিন্দু করুণার জ্যোৎস্না।
ধূলিরও ছিল রাজমুকুট—
বাতাস তা খুলে নিয়ে শিখিয়েছে নম্রতার ভাষা।
একটি পাতা ঝরে পড়ে বলল,
“ধরে রাখা নয়, ছেড়ে দেওয়াও প্রজ্ঞা।”
দিগন্ত তার রৌপ্য-দরজা মেলে
ভ্রমণরত হৃদয়কে দিল নীরব দীক্ষা।
আমরা দেখেছি—
সোনালি প্রাসাদের চেয়ে একটি সত্য বাক্য দীর্ঘজীবী,
তলোয়ারের চেয়ে কোমল ক্ষমা অধিক দূরগামী।
অতঃপর প্রভাত এল,
আলোর কাঁধে ভর দিয়ে নয়,
অন্তরের অন্ধকার স্বীকার করার সাহসে।
যে মানুষ নিজের ক্ষতকে
অন্যের আশ্রয়ে রূপান্তর করে,
তারই পদচিহ্নে ভবিষ্যৎ ফোটায় শেফালির সুবাস।
আর সময়—
সেই প্রাচীন বীণাবাদক—
শূন্যতার তারে তারে বাজিয়ে যায় এক গোপন রাগ:
“মহত্ত্ব জয়ের মধ্যে নয়,
মানুষ হয়ে ওঠার মধ্যেই।”
কবি পরিচিতি:
ড. সাবিনা ইয়াসমিন বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার এক সম্মানিত ও শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল হাই শিকদার ভান্ডারিয়া বিহারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য ইংরেজি শিক্ষক ও পিরোজপুর জেলা আইনজীবী। তাঁর মাতা তাহমিনা বেগম একজন স্নেহশীলা ও আদর্শ গৃহিণী। মায়ের ভালোবাসা, প্রজ্ঞা, নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ ড. সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যক্তিত্ব গঠন ও সাহিত্যচর্চায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে।
বর্তমানে ঢাকায় বসবাসরত ড. সাবিনা ইয়াসমিন পেশায় একজন চিকিৎসক। জ্ঞানার্জন ও উচ্চশিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের ফলে তিনি মেডিকেল কলেজে পড়াশুনার পাশাপাশি এমবিএ ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই অনন্য সমন্বয় তাঁর বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সমাজে তাঁর অবদানকে আরও বিস্তৃত করেছে।
চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি দেশ-বিদেশে একজন মানবতাবাদী, কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত ও সমাদৃত। মানবকল্যাণ, প্রেম, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইতিহাসচেতনা এবং জীবনবোধ তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রধান উপজীব্য বিষয়। তাঁর কবিতায় মানবিক অনুভূতি, প্রেম, মমতা এবং জীবনের বহুবিধ অভিজ্ঞতা জীবন্ত হয়ে ওঠে। সহজ, আন্তরিক ও ভাবগভীর ভাষার মাধ্যমে তিনি পাঠকের হৃদয় ও মনকে স্পর্শ করতে সক্ষম হন। তাঁর লেখনী মানুষকে মানবতা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ইতিবাচক জীবনদৃষ্টির প্রতি অনুপ্রাণিত করে।
তাঁর কবিতা ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাহিত্যপত্রিকা, সাময়িকী, সংকলন এবং অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে সমাজ সেবিকা, মাদার তেরেসা, ‘ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ফেস্টিভ্যাল অ্যান্ড কালচার অ্যাওয়ার্ড’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণপদকসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন।
একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। একই সঙ্গে একজন কবি ও সাহিত্যসাধক হিসেবে মানবতা, প্রেম, সহমর্মিতা এবং আলোকিত সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে অবিচলভাবে সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসা, গবেষণা ও সাহিত্য—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি মানবকল্যাণকেই তাঁর অন্যতম প্রধান ব্রত হিসেবে ধারণ করেন।
