মোঃ আব্দুল রহমান- এর একগুচ্ছ কবিতা

 


মোঃ আব্দুল রহমান - এর ফটো











অন্তরে কবিতার যাতায়াত
মোঃ আব্দুল রহমান


যেভাবে এক টুকরো সংগীত
শরীর স্পর্শ না করেও অনুভূতির ঘ্রাণ শুষে
ভাঙা মন জোরা লাগায়
হৃদয়ঙ্গম করে রন্ধ্রে রন্ধ্রে শ্বাস প্রশ্বাস
প্রাণ বাঁচায়,
আলোকিত করে ছেঁড়া মন-আকাশ
তেমনি এক টুকরো কথা কিংবা শব্দ কিংবা বর্ণ
জুড়িয়ে দেয় চূর্ণ বিচূর্ণ জীবন
উজ্জীবিত করে দেহজ অবয়ব কিংবা নশ্বরতা

মরতে মরতে আমিও বেঁচে যায় জীর্ণ বৃক্ষের মতো
কবিতার স্বতঃস্ফূর্ত স্রোতস্বিনীতে
জাগ্রত করে ধস ধরা অন্তর
ঘুনে ছেঁড়া অস্পৃশ্যতার মনন আর দহনের দাহ্য
কবিতার বর্ণ আর শব্দ
এবং শীতল কথামালা
এভাবেই আমাকে গানপুকুরে প্রত্যহ স্নান করায়
আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে সবুজ পাতা
অঙ্কুরিত হয় নতুন হাতেখড়ির প্রজন্ম!



ব্যথা
মোঃ আব্দুল রহমান


একটি নদী যেভাবে প্রতিকূলতা জয় করে
সাগরের বুকে ঠাঁই পায়, তেমনি ব্যথারা
শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছবি আঁকে। কখনো নীল
কখনো সাদা কখনো বিবর্ণ রং...
ধূসর পাঁজরে হৃৎপিণ্ড কুঁকড়ে ওঠে হঠাৎ
অদৃশ্য আগুনে পোড়ে মন
ব্যথা হলো সেই ডুমুরের ফুল যা দেখা ভাগ্যের
তবুও প্রস্ফুটিত হৃদয়ের ডালে ডালে
সৌন্দর্য বড়ই কম
শুধু জীর্ণতা আর বিবর্ণতার বাগান।



ছায়া এবং ছায়া
মোঃ আব্দুল রহমান


দিগন্তে অন্ধকার ঘনীভূত হলে মনের পাড়েও
অদৃশ্য ছায়া ভেসে চলে সদলবলে
শরীর তবুও অশরীরী আঁচড়
আষ্টেপৃষ্টে লেগে থাকে মনের পরিধি জুড়ে
যত প্রতিকূলতা জীবন বেঁকে দেয়
আলো খুঁজতে চায় বারে বারে নতুন পথ
আশরীরী আত্মারা চেপে ধরে সেই আলোর বাঁকে
নদীর পথ ধরে, পাহাড়ের পথ ধরে, আকাশের পথেও
তাদের আনাগোনা আর উল্লাস-
কখনো বৃক্ষের শাখা - প্রশাখা ঘিরে মেলা বসায়
অদম্য শক্তি আর অবাধ মুক্তি, নেশায় ভর করে
খেতে চায় মানুষের ঘেলু
চারিদিকে ছায়া এবং ছায়া, অশরীরী ছায়া
ধরার বুকে বিছানা পেতেছে কায়ার মতো শরীর
ছুঁতে! অনুভূতিকে মারতে!


পরিচিতি - মোঃ আব্দুল রহমান, জন্ম ৩ রা জুলাই ১৯৯২, মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া ব্লকের কাশিমনগর গ্রামে। পিতা আলি বক্স মণ্ডল, মাতা মৃত ফজিলা বিবি। ছেলেবেলা থেকে লেখালেখির হাতে খড়ি। ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলার বারুইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের (উঃমাঃ) ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। নতুন গতি, কলম, নয়া জামানা, আপনজন, দিনদর্পন ইত্যাদি পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ "অনুভূতির পেখম ( অভিযান পাবলিশার্স ), মানবতার শেষ প্রান্তে ( বিচিত্রপত্র গ্রন্থ বিভাগ ), স্মৃতির মেলা ( রংমিলন্তি প্রকাশনী ), সময়ের রঙবেরঙের সিঁড়িতে ( পাটাতন প্রকাশনা ), হলুদ পায়ে রক্তিম আলতা- ইবুক ( শব্দ লেখা ), জীবন্মৃত ( আগন্তুক প্রকাশনী ), অন্ধকার তবুও আলো ( বজ্রকণ্ঠ প্রকাশনী, আগরতলা, ত্রিপুরা ), নিস্তব্ধতার বাঁশি ( বজ্রকণ্ঠ প্রকাশনী, আগরতলা, ত্রিপুরা ), এ কেমন অঙ্ক ( স্পর্শ ও তৃণমঞ্জুরী প্রকাশনী ) এবং গল্পগ্রন্থ --- ইচ্ছেডানা ( রংমিলান্তি প্রকাশনী )"।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url