অনুগল্প: একেবারে ক্ষুদ্র, লেখক - সালেক উদ্দিন
একেবারে ক্ষুদ্র
সালেক উদ্দিন
—চাচা, আপনার তিন ছেলে বিদেশে। আপনি একা থাকেন—এ কেমন কথা?
—আমি একা কোথায়? ওরা তো প্রতিদিনই ফোন করে।
—তবু রাতে অসুস্থ হলে এক গ্লাস পানি কে দেয়?
—আল্লাহ তো আছেন।
—আপনার ছেলেরা দেশে আসে না?
—আসে। ঈদে আসে, বিয়েতে আসে, ছবি তোলে, আবার চলে যায়।
—আপনার কষ্ট লাগে না?
—লাগে। তবে ওদের সুখের পথে আমি কাঁটা হতে চাই না।
—এই বয়সে একা থাকতে ভয় হয় না?
—মৃত্যুকে না।
—তাহলে?
—মরে যাওয়ার পর অনেক দিন বেঁচে থাকার ভয়।
—এটা আবার কেমন ভয়?
—যে মৃত্যু খবর হয়ে ওঠে না; দুর্গন্ধ হয়ে প্রতিবেশীর নাকে পৌঁছায়।
—জীবনের এই লগ্নে এসে সবচেয়ে বড় সম্পদ কী মনে হয়, চাচা?
—এমন দু-একজন মানুষ, যারা দরজায় কড়া নেড়ে বলবে, “আজ সারাদিন আপনাকে দেখিনি। ভালো আছেন তো?”
—আর জীবনের সবচেয়ে বড় দারিদ্র্য?
—চারদিকে অনেক মানুষ থাকা সত্ত্বেও কারও মনে না থাকা।
—আপনি এত কিছু জানলেন কীভাবে?
—বুড়ো মানুষরা মৃত্যুর আগে একটা জিনিস শিখে যায়।
—কী?
—মানুষের ঘর বড় হলে সুখ বাড়ে না; মানুষের খোঁজ নেওয়ার মানুষ বাড়লে তবেই জীবন বড় হয়।
—এখন আপনার পৃথিবী কতটুকু?
—একেবারে ক্ষুদ্র।
লেখক পরিচিতি: সালেক উদ্দিন- এর জন্ম ২৬ মে ১৯৬০ সালে। বাংলাদেশের একজন কথা সাহিত্যিক। তিনি একাধারে গল্পকার নাট্যকার, কবি, গীতিকবি, সামাজিক- রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি নৈতিক রাষ্ট্রচিন্তাকে জনপরিসরে আলোচনায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে সক্রিয়। বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সমকালীন রাজনীতি নীতি বিশ্লেষণ ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে লেখালেখি করেন তিনি। আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে তিনি গল্প, প্রবন্ধ লিখে থাকেন। বাংলা একাডেমীর জীবন সদস্য এই লেখকের পূর্ব প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহ পাঠক মহলে সমাদৃত।
