নাটক: শয়তান স্বর্গ সুখে, নাট্যকার - মোঃ দাউদ হোসেন

 

দাউদ হোসেন - এর ফটো










নাটক: "শয়তান স্বর্গ সুখে"
মোঃ দাউদ হোসেন



চরিত্রলিপি
১) আকাশ - পুলিশ অফিসার (বয়স ৪৫)
২) o২ ( হাবুলদার বয়স ৫০)
৩) শ্যামল (প্রতিবাদী যুবক বয়স ৩০)
৪) অপু ( প্রতিবাদী যুবক ২৫-৩০)
৫) জীবন-( শিক্ষক ছদ্দবেশে পাগল বয়স ৬৫)
৬) সুদীপ ( জন প্রতিনিধি নেতা বয়স ৫০)
৭) শ্যাম্পু ( ওই চাটুকার বয়স ৬০)
৮) মদন ( মাতাল বয়স ৪০)
৯) পূর্ণিমা ( সুদীপের বাড়ির চাকরানী)
১০) রাহুল ( প্রতিবন্ধী যুবক  ২৫)
১১) মিডিয়া (৩০)
১২) আরো দুটি ছেলে মোবাইলে গেম খেলে ।।



(পর্দা খুলেই দেখা যায় চেয়ারে বসে থাকে  আকাশ, সুদীপ, পাশে দাঁড়িয়ে থাকে ০২ ও শ্যাম্পু, --জীবন পাগল বেশে দরজার মুখে বসে থাকে )

সুদীপ - তাহলে অফিসার ওই কথাই রইল,
আকাশ - না- না, না স্যার! এই পবিত্র পোশাকের আমি অমর্যাদা করতে পারব না।
সুদীপ- আমার কথা মতো না চললে, আপনাকে আমি জঙ্গলমহলে বদলি করে দেব, তখন বুঝতে পারবেন এই সুদীপ কী করতে পারে।
আকাশ - আমি জানি স্যার আপনাদের অনেক পাওয়ার, আমার কোন দুঃখ নেই জঙ্গলমহল হোক আর জলমগ্ন হোক, আমি সত্যের পথে থেকে সত্য কাজ করে জীবন যাপন করতে চাই, তাতে আপনি যেখানে ইচ্ছে আমায় ট্রান্সফার করুন না কেন ?
শ্যাম্পু -  হে হে হে হাসালেন অফিসার, এই কলিযুগে এত সৎ  থাকলে অনাহারে মরতে হবে , অকালে ঝরে যাবেন!
আকাশ - হ্যাঁ হ্যাঁ আমি মরতে চাই, অকালে ঝরতে চাই ,- ঝড়ে পড়ে মরে গেলেও আমি মিথ্যাকে আশ্রয় দিয়ে সত্যকে গোপন রাখতে চাই না। প্লিজ আপনার এখন আসতে পারেন ।
সুদীপ- আমরা এখানে থাকতে আসিনি, চলে যাব, তবে কাল দুপুরে যেন শুনতে পাই  ওই ছোড়া দুটোকে যেন  হা হা হা, আর যদি দুপুর বারোটা পেরিয়ে যাই , তবে আপনার আমি বারোটা বাজিয়ে ছাড়ব
শ্যাম্পু - হ্যাঁ হ্যাঁ বারোটা বেজে যাবে, অফিসার আবার ঝড়তে চাই
০২- স্যারের সামনে আস্তে কথা বলুন।
আকাশ - দাঁড়ান ০২ সাহেব।
  সুদীপ স্যার আপনি যখন এরপর আসবেন  এসব ছাগল টাগলকে নিয়ে আসবেন না । কারণ আমার কাছও কিছু কথা বেরোতে পারে আপনার আমার সাথে এই ছাগল  থাকলে আপনি আমার কথা হজম করতে পারবেন না ।
শ্যাম্পু - স্যার আমার নাম ছাগল না, আমার নাম শ্যাম্পু।
আকাশ - আরে রাখো তোমার শ্যাম্পু সাবান । এখান থেকে চলে যান
সুদীপ - ঠিক আছে। আমি ঠিক বারোটায় ফোন করবো। আসছি
( সুদীপ ও শ্যাম্পু চলে যায় )
   ---- ‌  ---   -----------------
০২- স্যার আপনার সামনে ওরা...
জীবন -   শাবাস বেটা শাবাস ( কবিতা - জানি শত্রুরা চারিদিকে আছে জেগে, আমার প্রচন্ড চিৎকারে তারা যাবে ভেঙ্গে..... আত্মবিশ্বাসী কিশোর এক আমি , মরতে আসিনি    )
আকাশ - এই যে কে আপনি?  না বলে সোজা একবার থানার ভেতরে ?
জীবন - নেতা সোজা থানায় আসবে, সাধারণ মানুষ বুঝি আসবে না ?
আকাশ - অবশ্যই আসবে, জনসাধারণের অভাব অভিযোগ নিয়েই তো থানায় আসবে, আচ্ছা এই পাগল বেসে আপনি কে, কথাগুলো ঠিক সাধারণ মানুষের মতোই বলছেন - কিন্তু পোশাক??
জীবন - আমি তোর বাবা।
আকাশ - বাবা মানে? 
জীবন - আমি সত্যি করে বলছি আমি তোর বাবা।
আকাশ - বাবার কথা বলবেন না, আমি যখন ছোট্ট ছিলাম ধরুন আট বছর হবো, তখন আমার বাবাকে কিছু দুষ্কৃতীরা হত্যা করে মেরে ফেলে, যখন আমি ফুটফুটে শিশু ,, তখনই বাবা-মা আমাকে বলতো আকাশ একদিন বড় পুলিশ অফিসার হবে, সে স্বপ্নকে বুকে করে লেখাপড়া শুরু করলাম, ডিগ্রি অর্জন করে, পরীক্ষায় বসলাম, সব কিছু করার পর আমি পুলিশের চাকরি পেলাম। বাবার স্বপ্ন পূরণ করলাম, অনেক অসহায় মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেছি, কারণ আমি আছি সত্যের পথে, আচ্ছা বলুন তো আপনি কে আসলে ??
জীবন - অট্ট হাসি দিয়ে (হে হা হা আমি ভবো ঘুরে পাগল স্যার, তবে আপনি খুব ভালো মানুষ, আপনি সৎ পুলিশ অফিসার, আপনার কথাগুলো সব শুনছিলাম, যখনই আমাদের জনপ্রতিনিধি টাকে, আপনার সততার পরিচয় দিচ্ছিলেন, তখনই আমার আনন্দে বুকটা ভরে গেল, একজন পুলিশ অফিসার যদি তাঁর পোশাকের পবিত্রতা বজায় রেখে এই চাকরি করতে পারে , তাকে  অসহায় মানুষ ধন্যবাদ জানাবে।
আকাশ - বলছি কি আপনি আপনার পরিচয়টা দেবেন , আপনি তো অনর্গল সব সত্য কথাই বলছেন, অথচ আপনার পাগল বেশে পোশাক! আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
জীবন - আপনাকে বুঝতে হবে না স্যার। আপনি সাধারণ মানুষের ভগবান, পুলিশ দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে, তারপরেও কিছু মানুষের কাছে গালমন্দ শুনতে হয়, একজন শিক্ষক- পুজো, বড়দিন, ছটো দিন , মেঘলা দিন , কতনা ছুটি পায়, ছুটি পাই বিশাল টানা গরমের , সব ডিপার্টমেন্টের চাকরিজীবীরা ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে কত আনন্দ আনন্দিত হয়ে জীবন যাপন করছে, একবার কি ভেবেছে এই খাকি ঊরধি পড়া পুলিশ কোন ছুটি  ... , ।  পুজো মণ্ডপে হোক, কিংবা নেতার মন্ডপে সব সময় ডিউটি রতো পুলিশ অফিসারেরা। কাজ করে চলুন স্যার আরো বড় করবে ভগবান
( পাগলের মতো হাসতে হাসতে চলে যায় জীবন)
  --------- --------------
আকাশ - একটা পাগল, নাকি ছদ্মবেশে ..
০২- স্যার লোকটা খুব জ্ঞানী আছে , পাগল তো নয়, এর কোন খারাপ মত নেই তো স্যার, আমি কি যাব তাকে ধরে নিয়ে আনতে ।
আকাশ - থাক। যদি সত্যিকারের ভালো মানুষ হয় আমার ব্যাপারে সব যখন বলছে, ও নিশ্চয়ই আমার কাছে ফিরে আসবে ।
চল অনেক রাত হয়েছে

(লাইট অফ)




( ২)
( সুদীপ বারান্দায় পায়চারি করে, একদিকে দাঁড়িয়ে থাকে শ্যাম্পু )
সুদীপ- এর আগে কোন অফিসার আমার মুখের ওপর কোন উত্তর দিতে পারেনি, আকাশ আমার উপর যেটা করল কাল দুপুর বারোটার মধ্যে বুঝতে পারবে
শ্যাম্পু- আমার নাম শ্যাম্পু স্যার বলে কিনা ছাগল। মালিক ওকে এমন শাস্তি দেন আপনার শাস্তিতে যেন হয়ে যায় পাগল।
সুদীপ -  আবে চুপ!
শ্যাম্পু - একটু আস্তে রাখুন মালিক নয়লে আমার শ্যাম্পু বেরিয়ে যাবে , আপনি তো জানেন আমার কাছে কেউ চিৎকার করলে আমি আবার ফ্যানা হয়ে যায় ।
সুদীপ - রাখ তোর ফ্যানা , আই ঘরে আই
(চলে যায়)





(৩)
(ঘুটঘুটে অন্ধকার মঞ্চে একা জীবন )
জীবন - আমি জীবন মাস্টার পাগলের ছদ্মবেশে ,, সমাজ বড় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে , চোখ হীন মানুষরা আকাশের সাত রং, আর চোখ ওয়ালা মানুষগুলো অন্ধকার দেখো।
শিক্ষিত বেকার যুবক, শিক্ষার স্কুলে নিয়ে ভিক্ষা করে, অশিক্ষিতরা জনপ্রতিনিধি হয়ে শিক্ষিত সমাজে ভাষণ মারে আর সেই ভাষণ শুনে আমরা শিক্ষিতরা দুহাত তুলে হাতখালি মাঠে শুরু করি ।
অন্ধকার, গৌড় অন্ধকার, এ যেন  শয়তান স্বর্গ সুখে ।
  আমার চোখের সামনে একজন সব পুলিশ অফিসার কে একজন পাখি নেতা উল্টোপাল্টা বলে গেল , একেই বলে শিক্ষিতরা ভিক্ষা করে, অশিক্ষিতরা রাজ করে।
পতন তোমার হবে শয়তান , হ্যাঁ হ্যাঁ পতন হবে ।
( প্রবেশ করে শ্যামল ,অপু )
শ্যামল - কার পতনের কথা বলছেন।
অপু - শ্যামল ছাড় ভাই, এটা তো আমরা টেনশন এ আছি, তারপর একটা পাগলের সঙ্গে কথা বলার সময় নষ্ট করিস না।
জীবন - পাগল। সবাই পাগল, কদিন পরে তোরাই শিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবি পাগলের মত।
শ্যামল - ঠিকই বলেছেন, আসলে কেউ না জানলেও আমি জানি আপনি কে,
জীবন - আমি কে তুমি জানো । আমি তো পাগল।
জীবন - পাগল নন,মাস্টার মশাই, পাগল নন, আপনি আমাদের শিক্ষক। আপনি কার অধঃপতনের কথা বললেন।
জীবন - এখন আমার প্রশ্নের উত্তর শোনার সময় তোদের নেই, তোরা যে করে হোক এখান থেকে পালিয়ে যা।
অপু - কেন আমরা পালাবো।
জীবন - তোরা ওই সুদীপের কুকর্মের কথা থানায় জানিয়েছিস, তাই সুদীপ্তদের জেলে ভরা চক্রান্ত করছে। পুলিশ বলে দিয়েছে নির্দোষ ছেলেকে কখনো আমি জেলে পড়তে পারবো না। ন্যাতা তো বিশ্বাস নেই কখন কি যে হয়ে যায়, আমার চোখের সামনেই পুলিশকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বলেছে, সকাল ১২ টার মধ্যে যদি ছেলে দুটো কে অ্যারেস্ট না করেন তাহলে পুলিশের এই বারোটা বাজিয়ে দেবে,
শ্যামল - মাস্টার মশাই, আপনার আদর্শে আদর্শিত হয়েছি আমরা, আপনিও কেন ছদ্মবেশে পাগল সেজে আছেন আমরা তা জানি, ফোনের মামলায় আপনাকে আসামি সাজিয়েছে, আমরা কেউ যদি সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আসামি সাজায়, মাথা পেতে নেব স্যার, আমরা এই বাংলার মাটি ছেড়ে কোথাও যাবো না । কিছুক্ষণের জন্য শয়তান স্বর্গে থাকলেও শয়তানের বাস কিন্তু নরকেই।
জীবন - নরক! কবে থেকে আমরা শিক্ষিতরা নরকে পড়ে আছি, নরকের যন্তনা সকাল সন্ধ্যা রাত্রিবেলা ভোগ করছি, আর তুই বলছিস  শয়তানের বাস নরকে, শয়তান যে আজ স্বর্গসুখে ।
  আমি আসি
( জীবন চলে যায় )
অপু - সত্যিই জীবন স্যার আমাদের আদর্শবান একজন শিক্ষক ছিল, আজ নাকি পাগল হতে হলো, আমরা সমাজের  অন্যায়ের  প্রতিবাদ করি বলে যদি আমাদের জেলে যেতে হয়, সমাজে বড় অন্ধকার নেড়ে আসছে ।
শ্যামল - দিন যতই কঠিন হোক, আমাদের সংগ্রাম করতে হবে, বইয়ের প্রতিটি পাতা যখন আমরা, গভীর রাত জেগে পড়ে মুখস্থ করতে পেরেছি, সমাজে নেই অন্যায় বুঝতে পেরেছি, সমাজকে বাঁচার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের, যারা মদ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা রোজগার করে, তাদের বংশের রোগ হয় না, তারা দুধ খায়, আর যারা মদ খায়  তারা বাড়ির গরুর দুধ বেঁচে মদ খায়,। সেটা আমাদের বুঝাতে হবে। মাদকদ্রব্য  এই যুব সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে এই সন্দীপ সেটা যদি আমাদের প্রতিবাদ করা অন্যায় হয় ,হোক আমরা প্রতিবাদ করবোই করবো।
( লাইট অফ হয়ে যায় )




(রাত আলো ছায়ায় শরিফ ও তার  বন্ধু মোবাইলে গেম খেলে, অন্যদিকে আরও রাস্তায় শ্যাম্পু যায় )
শ্যাম্পু- আহ: কি সুন্দর সন্ধ্যা। সুজব গাছের ফাঁকে ফাঁকে মিস্টি আলো বাতাস..
শরিফ - মার মার
বন্ধু - ধর ধর
শ্যাম্পু - একি ডাকাত এলো নাকি,, আমার জান মাল সব কেটে দেবে .. বাপের জন্মে শুনিনী  এরাস্তায় ডাকাত থাকে,, আগে জানলে আমি এখানে দিয়ে আসতাম না
শরিফ - মারমার এদিকে এগিয়ে আসছে
বন্ধু- তোরা ধর ধর না
শ্যাম্পু - আমাকে মারিস না রে ভাই , হাজার টাকা আছে আমার কাছে নেই প্রয়োজনে বাড়ি থেকে আরও এনে দেবো, কিন্তু আমাকে মারিস না
( সকলের মোবাইল গেম বন্ধ করে শ্যাম্পুর কাছে এসে চারিতিকে ঘিরে ফেলে )
শ্যাম্পু - আমাকে মেরো না, আমার জীবন চলে গেলে সব  শ্যামপুর ফেনা বেরিয়ে যাবে, এই টাকাটি নাও ..
শরিফ - কিসের টাকা কিসের জীবন,
শ্যাম্পু - তোমরা কারা
শরিফ - আমরা এলাকার ছেলে ,, এখানে মোবাইলে গেম খেলছি ।
শ্যাম্পু - মোবাইল গেম !
বন্ধু - হ্যাঁ।
শ্যাম্পু- তোমরা ডাকাত না..??
শরিফ - না না আমরা ডাকাত নয়, আমরা মোবাইলে গেম খেলছি তাই ধর ধর মার করছিলাম।
শ্যাম্পু -  ও গেমে ধর ধর মারমা করতে হয় । এতো বাপের জন্মে দেখিনি এমন খেলা,, ঠিক আছে আমি আসি,, তবে তোর এই গেম খেলিস না বাপ। আমাদের মত বয়স্ক মানুষ না মরে যাবে দেখে। আসি
( শ্যাম্পু চলে যায়, শরিফরা হাসতে থাকে এবং মোবাইলে গেম খেলতে থাকে )




(০২ হাবুলদার রাস্তা দিয়ে যায়, ওই রাস্তায় মদন মাতাল যায় )
০২- এই দাঁড়াও মদ খেয়ে কোথায় এত রাতে?
মদন - বউ পেলো লক্ষি ভান্ডার, টাকা ছিল না তাই বউ এর ভান্ডারের টাকা নিয়ে  মদ খেয়ে বাড়ি যাচ্ছি ।
০২- বাড়ি যেতে হবে না, থানা চলো।
মদন - মানে? আমি নিজের টাকা দিয়ে মদ খাব, আপনি আমাকে থানা নিয়ে যাবেন,এক কাজ করুন স্যার মদের দোকানগুলো বন্ধ করে দিন, আমাদের শরীরও বাঁচবে, টাকাও বাঁচবে। মদ পাবোনা মদ খাব না।
০২- শালা মাতাল হলেও তাহলে ঠিক। ঠিক আছে  যত তাড়াতাড়ি পারো মদ খাওয়া ছেড়ে দাও, আজকে থানা নিয়ে গেলাম না, এরপরে কিন্তু ছেড়ে কথা হবে না। যাও এখান থেকে
মদন - ঠিক আছে স্যার। আসি
( মদন চলে যায়)
০২- রাত অনেক হয়ে গেছে যাই এবার ঘুমাই ।
( চলে যায়)




(সুদীপ ও শ্যাম্পু  বারান্দায় পায়চারি করছে )
সুদীপ - আমার সমস্ত দু নম্বরী ব্যবসা লাঠি তুলে দেবে এই পুলিশ অফিসার, আমি চাইছি মাদকদ্রব্য খেয়ে যুবসমাজ শেষ হয়ে যাক, আর আমি লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা রোজগার করি, পুলিশ অফিসার আমার সঙ্গ দিচ্ছে না, ঘড়ির কাটাই বারোটা ,এবার অফিসার কে ফোন করি ( ফোনটা বার করে ফোন করছে।)
হ্যালো অফিসার , ওই শ্যামল অপু আর ওই ন্যাংড়া ছোড়া রাহুলকে  জেলে ভরেছেন? কি ওরা নির্দোষ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, তবে আমার কি হবে ? অফিসার কিছু না করলে, অফিসারের বারোটা বাজিয়ে ছোনাদের বারোটা বাজাতে হবে ।
শ্যাম্পু - মালিক, আমার মাথায় একটা আইডিয়া আছে,
সুদীপ - কি আইডিয়া
শ্যাম্পু - আমাদের বাড়ির কাজের মেয়েটা পূর্ণিমা আছে না, দেখতে তো বেশ খাসা, ওকে দিয়ে ক'দিনের ছড়াদের ফোনে চ্যাট করান, মানে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করেন, ইয়াং ছেলে, সুন্দরী মেয়ে পেয়ে, তার সঙ্গে ফুসুর ফুসুর গল্প করবে, তারপর ব্যাস,, খেলা জমে যাবে।
সুদীপ - ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না।
শ্যাম্পু- সিম্পিল ব্যাপার মালিক। পূর্ণিমা কে বুঝিয়ে বুঝিয়ে, রাখতে হবে, বলতে হবে  ওই ছোড়ারা যাতে পূর্ণিমা কে একটু নিয়ে লটরপটর করে, তারপরেই মেয়েটা গিয়ে থানায় বলবে শ্যামল, অপু ,রাহুল পূর্ণিমাকে ধর্ষণ করেছে। আর মিডিয়াকে কিছু টাকা দিয়ে পূর্ণিমার পয়েন্ট নিয়ে খবর বেরিয়ে যাবে, অফিসার তখন তাদেরকে আটক করতে বাধ্য হবে।
সুদীপ - দারুন প্লানিং। এই জন্য শ্যাম্পু তোকে 17 বছর ধরে এখানে রেখেছি।
শ্যাম্পু- হ্যাঁ মালিক, আমি এখান থেকে কোথাও যাব না, এখান থেকে গেলে আমার সব ফ্যানা বেরিয়ে যাবে ।
সুদীপ - বেরোবে না বেরোবে না, চল তোর প্রাণে কাজে লাগাই। এই শয়তান যে স্বর্গ সুখে।
( চলে যায়)






(ওটু ও পুলিশ অফিসার আকাশ )
আকাশ - আমি নির্দোষকে কোনমতেই দোষী সাইবস্তু করতে পারব না, যে অনলাইন পড়েনি তাকে আমি অন্যায় কারী বলবো কেন, আমি আমার পোশাকের পবিত্রতা সব সময় পবিত্রতা রাখবো। জনপ্রতিনিধির কথা আমাকে অন্যায় ভাবে মানতে হবে সেটা আমি কখনো মেনে নিতে পারব না।
০২-  ঠিকই বলেছেন স্যার।
আকাশ - এই ব্যাপারটা আমাকে আমাদের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এ জানাতে হবে।
( লাইট অফ)



(রাহুল অপু ও শ্যামল )
রাহুল - আমি দু পায়ে চলতে পারিনা, অথচ সুদীপ নাকি আমাদের  জেলে দেবে । সৎপথে থেকে  আমাদের নরকে থাকতে হচ্ছে, ভাবছি আজকের পর আর কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে যাব না, আমার পাড়ার অলিতে গলিতে, বেআইয়ানি মদ গাঁজা চলছে,, প্রশাসনকে বলতে গিয়ে পুলিশ তাদের ভূমিকা পালন করেছে সুদীপা কিছু লোকজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে গেছে, সুদীপের কাছে আমরা নাকি পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছি।
শ্যামল - আমাদের যতই বাধা আসুক, আমরা শিক্ষিত যুবক, এই অন্ধকার সমাজকে আমাদের, বাঁচাতে হবে।
অপু - আমার পরিবার , আমার উপর নির্ভর, আমিও তো তাদের কাছে টার্গেট, আমার কিছু হয়ে গেলে পরিবার কি হবে।
শ্যামল - সত্যের পথে ভগবান আছে, ভগবান ঠিক চালিয়ে নেবে। আমরা নীরবে নিশিতে সত্যের পথে থাকবো। আজ দিনের পর দিন যুব সমাজ অন্ধকারে নেমে যাচ্ছে, প্রকাশ্য দিবালয়ে মদ, গাজা  খেয়ে টালমাটার যুব সমাজ।
( হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে কি যেন এলো)
কেরে, এই মেয়েটা দেখতো
( সবাই মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকে )
রাহুল - মেয়েটা দেখতে খুব সুন্দর,   তবে মেয়ের চক্করে না পড়াই ভালো।
শ্যামল - নাম পূর্ণিমা, দেখতে অপূর্ব সুন্দর, কিন্তু একটা বেকার ছেলেকে কেন হোয়াটসঅ্যাপ করল, বারবার মেসেজ করতে আছে ,
অপু - কোন উত্তর দিস না ।
রাহুল - চল সবাই সাবধানে বাড়িতে থাকে। সুদীপের লোকজন কখন না আমাদের মেরে দেয়।
( লাইট অফ)



(পূর্ণিমা সুদীপ ও শ্যাম্পু )
সুদীপ - পূর্ণিমা, তুমি যেভাবে হোয়াটসঅ্যাপ করেছ, এবার তুমি আরো আরো, তার ভালোবাসার অভিনয় পড়ে যাও, কি করে হোক একদিনের মধ্যেই, আমি তোমাকে যে যেভাবে বলেছি, সেটা করে ছোড়াকে জেলে করতে হবে,
পূর্ণিমা - আমি মেয়ে, আমি ছলনা করতে জানি, সব মেয়ে না জানলেও, আমি জানি, আমি ঠিক আমার প্রেমের জালে শ্যামল অপরাহুল কে নিয়ে আসবো
সুদীপ- অনেক অনেক টাকা তোমায় দেব।  কাজটা তুমি সাকসেস করে দাও।
পূর্ণিমা - ঠিক আছে মালিক। আমি যাচ্ছি
(পূর্ণিমা চলে যায় )
সুদীপ -  শ্যাম্পু । তোর চালাচালে এবার শ্যামল রাহুলদের ফেনা বের করব , শয়তান স্বর্গ সুখে। হ্যাঁ হ্যাঁ আমি শয়তান এই শয়তানি করে  আমি স্বর্গ সুখে, ঘর যারা সৎ পথে নিষ্ঠার সহিত পরিশ্রম করে যাচ্ছে তারা যেন নরকে, আর এই যুব সমাজকে আমি নরকে ফেলতে চাই, মদ খাবে গাঁজা খাবে, শিক্ষা থেকে দূরে থাকবে অন্ধকার সমাজে ভরে যাবে আর আমি একাই শয়তানি করে । এই শয়তান স্বর্গ সুখে।
(প্রচন্ড হাসি লাইট অফ)


১০
(শ্যামল একাই শুয়ে শুয়ে চ্যাট করতে থাকে )
শ্যামল - মেয়েটা এতবার ফোন করছে, এতবার চ্যাট করছে, গরিব হলেও দেখতে খুব সুন্দর, কি যে করি ভাবছি। কালকে আবার দেখা করতে চাই, ঠিক আছে রাহুলকে আর আপুকে না জানিয়ে কালকে বিকেলে মেয়েটার সঙ্গে দেখা করি।
( লাইট অফ)


১১
(রাহুল ও অপু )
রাহুল - কিরে আপু, শ্যামলের কোন খবর পেলি?
অপু - শ্যামল কে বারবার বললাম, মেয়ের চক্করে পড়িস না, প্রয়োজনে বিয়ে করে ফেল,   কাল থেকে শ্যামল ফোনে সব সময় ব্যস্ত।
রাহুল - আমাদের মতন সৎ যুবক ছেলেদের প্রতিটি পা ফেলতে হবে সতর্ক ভাবে, নইলে বিপদে পড়তে হতে পারে, কথায় আছে এক বালতি দুধে যদি এক ফোটা  পেচ্ছাপ পড়ে সব দুধ নষ্ট হয়ে যায় ।
অপু - চল দেখি আর বাড়ি যাই
রাহুল - হ্যাঁ চল।



১২
( শ্যাম্পু ও মদন )
শ্যাম্পু - কি মদন দা , আজকে খাওয়া হয়েছে
মদন - হ্যাঁ আজকে বাংলা খেয়েছি। সুদীপ দা আমাদের ভগবান, মানে মাতালদের ভগবান সুদীপ দা। সুদীপ দা ছিল বলে আমরা তো বাড়িতে বসেই এইসব পেয়ে যাচ্ছি খেতে।
শ্যাম্পু - তা দিনে কতবার খাচ্ছেন।
মদন -  ধরুন দুবার, সকালে একবার রাতে একবার।
বউর সঙ্গে ঝগড়া হলে তিনবার, মুড খারাপ থাকলে চারবার, আর বন্ধুবান্ধব নিয়ে মুড ভালো থাকলে পাঁচবার। সুদিপ দা ছিল বলেই আমরা খেতে পারছি।
শ্যাম্পু - খেয়ে যান খেয়ে যান যত পারেন খেয়ে যান। আপনারা খেলে আমরা লাভবান। আসি
(শ্যামপুর চলে যাই )
মদন - মদ না খেলে সালা রাত কাটে না। আমার কাছে সব শালা ভিখারী , আমার মতন কোটিপতি কোন শালা নেই,যাই বাড়ি যাবার সময়  আর এক বোতল নিয়ে গিয়ে রাতটাই জমিয়ে ঘুমায়।
( মদন চলে যায়)



১৩
(পূর্ণিমা ও শ্যামল )
শ্যামল - আপনি যেটা বলছেন সেটা করা যাবে না। বাড়িতে বাবা মাকে বলুন তারপর একটা সময় দেখে বিয়ে করে নিতে হবে।
পূর্ণিমা -( হঠাৎ চিৎকার করতে শুরু করে বাঁচাও বাঁচাও বলে সঙ্গে সঙ্গে শ্যাম্পু সুদীপ ও লোকজন ঢুকে  শ্যামলকে বেধড়ক মার দেয়, পুলিশ আসে মিডিয়া আসে দূর থেকে পাগল জীবন দ্যাখে,, ভোটের স্থানে রাহুল ও অপু যাই তাদেরকেও পুলিশ ধরে নিয়ে যাই, মিডিয়ার সামনে মেয়েটা কেঁদে কেঁদে কি বলে, ভিডিও চিৎকার করে বলে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় খবর, ।
(লাইট অফ হয়ে যায় )


১৪
(সুদীপ ও শ্যাম্পু )
সুদীপ - শয়তান স্বর্গ সুখে। শ্যাম্পু তোর প্লানিং দিয়েই এই শয়তান সাকসেসফুল , আর পাড়াতে বেআইনি দরবারে কেউ হাত দেবে না, প্রতিবাদ করবে না। অফিসার এবার তাদেরকে জেল হাজতে দেবে, ধর্ষণের মামলায় প্রতিবাদী কন্ঠরা জেলের অন্ধকার ঘরে জীবন কাটাবে, আর এই শয়তান স্বর্গ সুখে থাকবে।
শ্যাম্পু - মালিক ঐ মাদকটি পাচার করে দিয়েছি, এই এলাকায় সব থেকে বড় মাতাল মদন, ওর এখন পয়সার অভাব, তিন বেলা মদ খেতে পারে না, ওকে দিয়ে পাচারের কাজটা  করিয়ে নিচ্ছি।
সুদীপ - সাব্বাশ শ্যাম্পু , সাব্বাস (পকেট থেকে টাকার বান্ডিল বার করে) এটা রাখ তোর বকশিশ ।
শ্যাম্পু - ধন্যবাদ মালিক, বলছিলাম কী মালিক...
সুদীপ - হ্যাঁ, বল, কী বলবি?
শ্যাম্পু - পূর্ণিমা এখানেই থাকে তো, আমাদের কাজটা বড় করল, আর আমি এখানে ১৭ বছর ধরে থাকি। বলছিলাম কী ওই পূর্ণিমার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দেন। একসাথে থাকব। আর আমাদেরকে  প্রতিবাদ করলে পূর্ণিমাকে দিয়ে যুদ্ধে নামিয়ে দেব।
সুদীপ - কেশটা এখন চলুক, তারপর না হয় পূর্ণিমার সাথে তোর বিয়ে দিয়

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url