ফারুক প্রধান - এর তিনটি কবিতা

 

ফারুক প্রধান - এর ফটো











অশান্ত ঢেউ
ফারুক প্রধান


অশান্ত ঢেউ আচড়ে পড়ছে সমুদ্রের পাড়ে
দূরে মাছ ধরার নৌকা দেখা যায়
মিটমিট বাতির আলোয় ঝলমল করছে
সাদা সফেন ফণা তুলে তেড়ে আসছে।

কখন জোয়ার ভাটার টানে নিয়ে যাবে অথৈ সমুদ্রে
জাহাজ ভিড়েনি কুয়াকাটার বীজে
ছোট ছোট নৌকায় বোঝায় করে মাছ নিয়ে যায় বাজারে
ক্রেতাদের ভিড়ে মাছেরা উল্লাস করে।

বিকিকিনির হাটে প্রতিদিনই বিক্রি হয়ে যায়
নিজেরা অন্যের খাবার হয়ে সুস্বাদু লকলকে জিভে, এক নিঃশ্বাষে পলকেই হজম হয়ে যায়।
রুপালি ইলিশ সমুদ্রের ঢেউয়ে হারিয়ে যায়।



মেঘের বাড়ি কই
ফারুক প্রধান

হাওয়ায় ডাকাডাকি মেঘের বাড়ি কই
ময়ুর কেকা নাজছে সেথা বৃষ্টি নামবে ওই।
দুপুর বেলা বর্ষা নামে ঝিরিঝিরি ফোটায় ফোটায়
রাখাল মাঠে গরুর সারি হম্বা হাম্বা ডাকে
গুরু গুরু মেঘের গর্জনে বিজলি চমকায়
ছাতা মাথায় পথিক যেন হুমড়ি খেয়ে বাঁকে।

শিয়াল মামার ঘুৃম ভেঙ্গে যায় গর্তে মাথা উঁচু
কুকুর বিড়াল গা ঝারা দিয়ে বৈঠক খানায় ওঠে
কাক চড়ুই শালিক পেঁচা কিচিরমিচির করে
সিংহ হলো বনের রাজা সেও কুঁচুমুচু।

একটু খানি বৃষ্টি হলে চালা ভেঙে পড়ে
গরীব দুখী সাঁওতাল মুচি ভিজচ্ছে খালি গায়ে
শিশু কিশোর আনন্দে খেলছে হিজল গাঁয়ে।
মা বাবা দাদা দাদি চিন্তায় ভেঙ্গে পড়ে।




শরতে সাদা মেঘে ঢাকা আকাশ
ফারুক প্রধান

সাদা মেঘে রঙধনুটা রঙিন মেঘে আঁকা
কাশফুলে প্রজাতির রঙিন পাখায় উড়ে বেড়ায়
ফরিং যেন পাখা মেলে অরণ্যে উড়ে যায়
নদীর বুকে নৌকা চলে ভাটিয়ালি গান গায়।

রাখাল মাঠে রোপা ধানের চারা লাগায় মুঠি মুঠি
আমন ধানের গন্ধ মাখা ফসলের অপেক্ষায়
কৃষক অলস হাওয়ায় ঘুমের বাড়ি আইলের উপর
ঝম ঝমাা ঝম বৃষ্টি নেমে ঘুমের ঘোরে লাফিয়ে ওঠে।

তালের পিঠা মজা করে খাব শরতকালে
গাছে গাছে বাবুইপাখি বাসা বেঁধে থাকে
শরত আকাশ জুড়ে মেঘের সাথে করি খেলা
সেই দিনের কথা কি আর ইচ্ছে করে ভোলা যায়।


কবি সন্বন্ধে:
সব্যসাচী লেখক ফারুক প্রধান ১৯৮০ সাল থেকে কবিতা ও ছড়া লিখে আসছেন। তাঁর প্রকাশিত বই "জেগে উঠি নিঃসঙ্গতায়, বঙ্গবন্ধুর জন্য কবিতা, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, ভালোবাসা রেডিমেট।" ছড়ার বই ফারুক প্রধান এর ছড়া, নাটকের বই  মুক্তিযুদ্ধের পথনাটক ও গানের অ্যালবাম মনের টেলিফোন। কবিতার অ্যালবাম ভালোবাসা বায়না হবে, ভালোবাসার রঙিন ফ্রেম ও বঙ্গবন্ধু।
নয় ভাই তিন বোন। বাবা মা মারা গেছেন। মরহুম আব্দুল মজিদ প্রধান ও মনোয়ারা বেগম। এক ছেলে স্বচ্ছ প্রধান স্ত্রী জান্নাতুন নাঈম। সে ১৯৬৫ সালে মাতাইশমঞ্জিল দমদমা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯১৮ সালে দিল্লি মিরোট লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে স্মারক সন্মাননা পান। সব্যসাচী লেখক হিসেবে কলকাতা কলতান ওয়েভস ফাউন্ডেশন থেকে সন্মাননা পান। এছাড়া কবি জসিমউদদীন, লালন, বঙ্গবন্ধু, ছায়ানট ইত্যাদি পুরস্কারে ভূষিত হন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url