আবদুস সালাম - এর তিনটি কবিতা
সময়ের সংযমী ভাষণ
আবদুস সালাম
সময়ের ভাঁজে জমে আছে পুরোনো ধুলোর আস্তরণ
মজে যাওয়া পুকুর
ফুটেছে শাপলা, শালুক
ওরা জানে পুকুরের তলা শুকোলে মৃত্যু ওদের ডেকে নেবে
অনুভবের ঢাকনায় বর্ণিল ক্যানভাস
শূন্য- হাঁড়িতে সেদ্ধ হয় দীর্ঘশ্বাস
ভেসে আসে বধ্যভূমির ফেরিওয়ালাদের চিৎকার
পিওন বিলি করে অভিমানের প্রলেপ মাখানো চিঠি
চেতনার অলিন্দে ঘুরপাক খায় স্বপ্নভুক ভালোবাসা
সময়ের পেঁচারা তখন উল্লাস মাতে
একটা বঞ্চনামুখর সন্ধিকাল পুতুল নাচ দেখায়
ডানা ভাঙ্গা বিশ্বাসের প্রজাপতির ওড়ে
যন্ত্রণা মুখর একটা বিস্মরণ উকি মারে তখন
আত্মহত্যার বান্ধবীরা শেখায় সময়ের সংযমী ভাষণ ---
আত্ম দহনের পদবিন্যাস
আবদুস সালাম
জীবনের গানে বিশেষ্য বিশেষণ থাকলেও অনুভূতিহীন পিপাসা লাগে সার্বজনীন বারান্দায়
নিস্তব্ধ দুপুরে গড়াগড়ি খায়
যৌগিক -
অযৌগিক ক্রিয়া অস্তিত্বের স্বয়ংক্রিয় সমালোচনায় আত্মহত্যার তথ্যচিত্র লেখে
সময়ের ঢেউ ধুয়ে দেয় লবণাক্ত দ্বীপ ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে যাওয়া দিনগুলো আঁকে শূন্যতার আলপনা
ঝাপসা চোখে লিখে রাখি নিস্তব্ধ দুপুরের গান
শ্বাস-প্রশ্বাস ঘিরে উঁকি মারে সর্বনাম
রাতে প্রহর সেলাই করে ক্ষয় রোগী মা
জীবনের প্রতিটি প্রহর তুলে রাখি অনুভূতির দুপুরে
থেমে যায় সকালের অর্থনীতি
উপুড় হই আত্ম দহনের ব্যালকনিতে
এখানে সবাই সমাজবদ্ধ হলে সমাসবদ্ধ- পদ ব্যাকরণের কাছে মাথা নত করে
চাঁদের ছায়ায় অতৃপ্ত আত্মা
আবদুস সালাম
আমাদের আশাগুলো সব নেমে যাচ্ছে সমুদ্রের ঘাটে
অক্টোপাসের দল ছুটে আসছে চুমু খাবে বলে
হৃদয়ে তখন সন্ধ্যা নামে
ভাঙ্গা চাঁদের নৌকায় চেপে বসেছে ক্লান্তি , চাঁদের ছায়ায় কল্পনার জাল বুনছে পরকীয়া সমাজ
স্বজন হারা মৃত্যুরা নামে গোত্রহীন সীমানায়
পুঁতে দিচ্ছে উদ্বাস্তু পতাকা
মৃত্যুদূত পাহারা দিচ্ছে লবন ক্ষেত আর সঙ্কটকাল
ঝড় উঠেছে, উথাল পাথাল নিরাপত্তাহীন ছায়া
দিশাহীন প্রজাপতির দল পরিত্যক্ত কবর ডাঙায় শুনছে শবযাত্রার শব্দ
ওদের ডানাগুলো সব ভাঙ্গা
সমাধীস্থ মানুষেরা অমর হবে বলে বসে আছে ধর্মগ্রন্থ নিয়ে
বাজছে বিনাশহীন ঘৃণার সঙ্গীত---
মন্দির বেদীতে কেঁদে আকুল সব পাঁঠা উন্মাদ পুরোহিত পড়ে চলেছে যজ্ঞের মন্ত্র ধূপের সম্মোহনী ধোঁয়ায় সাজানো হচ্ছে আততায়ীর মঞ্চ
মৃত মানুষের বন্দরে পাড়ি জমায়
পূর্বপুরুষের অতৃপ্ত আত্মা
এভাবেই আমাদের আশাগুলো রোজ আত্মহত্যার গল্প শোনায়
