উমর ফারুক - এর দুটি কবিতা
জগত ভাবনা
উমর ফারুক
সবুজে ঘেরা মাঠ সোনা মুখ সূর্য
ধবধবে গগনে আঁকি কত স্বপ্ন।
চিত্তে ধরেছে ঘুণ বিপন্ন ভাবনারা
মন বড় একা তবু নীরবতা এখনও!
আকাশ টা ঝুলে থাকে হয় না ক্লান্ত
বোকা মন ভেবে নেয় বেশি খুব
রাত জেগে সারারাত কাঁদে অবিশ্রান্ত
ঝর্নারা পানি আনে পাহাড়ের সন্মুখ।
বৃষ্টির দিন হলে সারা রাত ডাকতো
ব্যাঙ সাপ ঝিঁঝি ও আকাশের তারারা
সবুজের পতাকাটা হাতে তুলে নাচতো
সূর্যের সৎভাই মরুভূমি সাহারা।
এ যাবৎ যত দিন দ্রুত ছুটে যাচ্ছে
পৃথিবী তত পা মরণের দিকে বাড়াল
নিজেকে খেয়ে ফেলে জীবনকে খাচ্ছে
দাঁত তার ক্রমশ হয় খুব ধারালো।
মৃত্যুর ঘর
উমর ফারুক
কাছাকাছি কাউকে দেখতে পেল না
পথিক একটি ঘর ছেড়ে চলে গেলো
চারজন তক্ষকের কাঁধে চড়ে
মৃত্যুর শোভাযাত্রায়
শ'য়ে শ'য়ে মানুষ জানাতে এলো বিদায়
পথিক জানলোই না—
লোকটি ভাবতেই থাকলো
একা একা তবু,
সে দেখলো অতীব সুক্ষ্ম দৃশ্য
একটি নতুন বিশ্বে কতগুলো কানামাছি ওড়া-উড়ি করছে নির্বিঘ্নে
কতগুলো অচেনা দানব পায়ে হেঁটে আসছে
আর একটি সাড়ে তিন হাত মাটির গর্ত !
এই অন্ধকার গহ্বরে
নেই কোনো জানালা
কিংবা কোনো মাটির দরজা
শুধু মাত্র পা থেকে মাথা পর্যন্ত
উঁচু একটি প্রকাণ্ড মাটির দেয়াল
আর শক্ত বাঁশের ছাদ বরাবর
চিত হয়ে মাটির বিছানায় শুয়ে থাকা
