গাবু-দাদুর গণ্ডগোল কলমে - ড. আবু তাহির ও মোসা: আঞ্জুমান সুলতানা
গাবু-দাদুর গণ্ডগোল
কলমে:
ড. আবু তাহির
প্রিন্সিপাল, ইস্ট মালদা বিএড কলেজ, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ।
ও
মোসা: আঞ্জুমান সুলতানা
রিসার্চ স্কলার, অরুণোদয় ইউনিভার্সিটি, ইটানগর, অরুনাচল প্রদেশ।
গাবু-দাদুর মাথার উপর টুপিটা ঢংঢং,
গোঁফ দুটো তাঁর পাকিয়ে ওঠে রংবেরঙের ঢং,
হাঁটতে গেলেই জুতো বলে—খটাং খটাং খট্!
ও মা! দাদুর টুপির ভেতর ডাকছে নাকি বট্!
নাকের উপর চশমাখানা টলছে দুলে দুলে,
চোখের বদলে চশমা দিয়ে দেখেন মাথার চুলে,
সূর্য দেখে বলেন দাদু—“চাঁদ উঠেছে ভাই!”
ও মা! দিনের বেলা চাঁদটা এল কোথা পাই!
সকালবেলা লুচি খেলেন একটা, দুটো, দশ,
তার উপরে সন্দেশ গেল—বারো কিংবা দশ,
পেটটা ফুলে ঢোল হয়েছে—দাদুর তবু সাধ!
ও মা! হাঁড়ির ভেতর খুঁজছেন কেন আরও দুটো বাদ!
ঠাম্মা বলেন—“থামো এবার, পেটটা যাবে ফেটে,”
দাদু বলেন—“পেট কি বেলুন, ফুটবে হাওয়া পেটে?”
বলতে বলতেই ঢেঁকুর উঠল—ভোঁ-ও-ও-ও করে সুর!
ও মা! দাদুর ঢেঁকুর শুনে কাকটা পালায় দূর!
বাজার গেলেন চাল কিনতে, হাতে নিয়ে থলে,
ফিরে এলেন ফুটো ছাতা ঝুলিয়ে নিজের গলে,
ঠাম্মা বলেন—“চাল কোথায়?” দাদু বলেন—“চাল?”
ও মা! রাস্তা জুড়ে দেখিনি কি মোটরগাড়ির চাল!
মাছ কিনতে বাজার গিয়ে কিনে আনেন ঘুড়ি,
বলেন—“এ মাছ আকাশজলে উড়বে ঘুরিঘুরি,”
লেজের সঙ্গে সুতো বেঁধে ছাদে গেলেন ধাই!
ও মা! মাছটা দেখি মেঘের দেশে উড়ছে নাকি ভাই!
দাদুর ছাতা মহামূল্য—নামটি ‘মেঘবরণ’,
রোদ উঠলেই মাথায় খোলেন, করেন খুবই যতন,
বৃষ্টি এলে ছাতা বগলে দৌড়ে ঘরে যান!
ও মা! ছাতা ভিজলে সর্দি হবে—দাদুর এমন জ্ঞান!
এক পায়েতে কালো জুতো, অন্য পায়ে খড়ম,
হাঁটতে গেলে পথটা বাজে—ধরম ধরম ধরম,
পিছন থেকে কুকুর ডাকে—ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ!
ও মা! দাদু বলেন—“আমার গান শুনতে এসেছে কেউ!”
দুপুরবেলা ঘুমিয়ে দাদু নাক ডাকেন ঘরর্,
টেবিল কাঁপে, জানলা কাঁপে—ঘরর্ ঘরর্ ঘরর্,
ঘড়ির কাঁটা ভয়ে ভাবে—“এবার বুঝি শেষ!”
ও মা! দাদুর নাকের ডাকে কাঁপছে গোটা দেশ!
স্বপ্নে দাদু রাজা হলেন, বিড়াল হলো মন্ত্রী,
ইঁদুর হলো সেনাপতি, ব্যাঙটা হলো যন্ত্রী,
ছাগল পরে কালো কোটে বিচার করে ঠাট!
ও মা! হাঁসটা নাকি রাজদরবারে করছে ওকালাত!
মুরগি হলো থানার দারোগা, কাকটা পাহারাদার,
টিকটিকিটা খবর লেখে—“জয় হোক দাদুর সরকার!”
ইঁদুর এসে সেলাম ঠোকে—লেজটা তুলে খাড়া!
ও মা! বিড়াল মন্ত্রী দেখেই কেন ইঁদুর দিশেহারা!
দাদু দিলেন নতুন আইন—“হাসতে হবে রোজ,”
মুখটি ভারী করলে পরে দিতে হবে খোঁজ,
হাসতে পারলে মিষ্টি পাবে—সন্দেশ আর দই!
ও মা! এমন রাজার রাজ্য পেলে আমিও রাজি হই!
হঠাৎ দাদুর ঘুমটি ভাঙে—ধপাস করে পড়ে,
চশমাখানা উড়ে গিয়ে আটকে জানলা ধরে,
ঠাম্মা ছুটে বলেন—“ওগো, ভাঙল নাকি হাড়?”
ও মা! দাদু বলেন—“আমায় দেখে ভেঙেছে মেঝের হাড়!”
সন্ধ্যাবেলা উঠোনজুড়ে নাতির মস্ত ভিড়,
দাদুর গল্প শুনতে এসে কেউ থাকে না স্থির,
দাদু নেড়ে গোঁফটা বলেন—“শোন রে আমার কথা,”
ও মা! গল্প শুরুর আগেই দাদু ভুললেন গল্প কোথা!
চশমা খোঁজেন টেবিল তলে, খোঁজেন খাটের পাশে,
নাতি বলে—“দাদু, ওটা তোমার নাকের উপর আছে!”
দাদু বলেন—“জানতাম তো, দেখছিলাম তোদের জ্ঞান!”
ও মা! নিজের নাকেই চশমা রেখে খুঁজছে সারা খান!
রাত হয়েছে, দাদু এবার বিছানাতে যান,
বালিশটাকে পায়ে রেখে কম্বল মাথায় টান,
বলতে থাকেন—“ঘুমটা কেন আসছে না আজ মোটে?”
ও মা! দাদুর জুতোজোড়া দেখি শুয়ে আছে খাটে!
ঘুমের মাঝেও গোঁফটা নাচে, টুপিটা দেয় দোল,
নাকের ডাকে রাতের আকাশ বাজায় মাদল-ঢোল,
চাঁদটা হেসে মেঘের আড়াল থেকে মারে উঁকি—
ও মা! এমন মজার গাবু-দাদু আর কোথায় দেখি!

