খগেন্দ্রনাথ অধিকারীর একগুচ্ছ কবিতা
এ বিশ্ব রাষ্ট্র
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
অনাদি অনন্ত আগে
উঠেছিল এখানে ধ্বনি
অমৃতের পুত্ররা ওহে
মনোযোগ দিয়ে শোন
এই মহাবিশ্বে।
তারপর যুগে যুগে
দেশে দেশে দলে দলে
মহান মানুষেরা সবাই
তুলেছিলেন একই রব
বিশ্ব সমাজের।
অলিভার গোল্ডস্মীথ,
কার্ল মার্কস, এঙ্গেলস
নাজিম হিকমত ,রাসেল
টলস্টয় ,রবীন্দ্রনাথ ,
ল্যাস্কি সকলে।
শোষণ নির্মূল চাই,
জাত বা ধর্মের নামে
সুযোগ বৈষম্য টিঁকায়,
ভাতের নিরীখেই কেবল
হবে সংরক্ষণ ।
আদ্বিজচণ্ডাল তাই
ক্ষুধার মানদণ্ডে যোগ্য,
বিশেষ সুবিধা পেতে
শ্রেণীই ভিত্তি সবার
ধর্ম বর্ণ না মেনে।
বাগিচায় জল দেয় মালি
ফূলের রং না দেখে ,
কোন্ চারা দুর্বল জীর্ণ
তারই নিরীখে কেবল
সেচ দেয় মূলে।
ধনীরা আপন স্বার্থে
বিচিত্র ফন্দি আঁটে,
নির্ধনকে ধোঁকা দিয়ে
বিভাজনের খেল খেলে
মানুষে মানুষে।
রাষ্ট্রের গণ্ডী বানায়,
নাগরিক পুতুল বানায়,
পদাঘাত প্রাপ্য ওদের,
এ বিশ্ব রাষ্ট্র তোমার,
আমার, সকলের।
যেতে দিও আমাকে আগে
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
মানুষের স্বাভাবই হোল
লাইনটা ঠেলে ভেঙ্গে
সামনে এগিয়ে গিয়ে
সিনেমার টিকিট কিম্বা
ট্রেনের রিজার্ভেশন
কেটে নেওয়া আগে।
বুকিং ক্লার্করা কেউ
চায়না সংঘাতে যেতে
ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে
কাউন্টারের ওপাশে বসে
হিসাবের কড়ি নিয়ে
দায় সারে নিজেদের।
জীবন নদীর ঘাটে
খেয়া পার করো যারা
আমায় টপকিয়ে যেন
,পিছনের কাউকে ভুলেও
ওগো মাঝি ভাই তুমি
তুলোনা নাওয়েতে।
ক্রমটা বজায় রেখো,
যেতে দিও আমাকে আগে
আমার সময় হলেই,
পিছনের লোকরা সারুক
তাদের বকেয়া কাজ
সাজাতে বিশ্বকে।
আমাদের দেশে
খগেন্দ্রনাথ অধিকারী
তামাম বিশ্বটাই হোল
আমাদের সবার দেশ,
আমরা নাগরিক হলাম
এই মহা -রাষ্ট্রের।
ব্রাত্য "বিদেশি"শব্দ
এখানকার অভিধানে
কাঁটাতার সীমানা চিহ্ণ
মানিনা কোনটাই বন্ধু,
মুক্ত বিহঙ্গের মতো
ঘুরি ফিরি অবাধে।
ধনবলে, পেশী বলে,
বলবান কিছু লোক,
বানিয়েছে দুর্ভেদ্য প্রাচীর
রাজকর্মী রেখে দিয়ে
আপন খেয়ালে।
খড়কুটোর মতোই ওসব
গণস্রোতে ভেসে যাবে
টিঁকবেনা একটা কিছুই
পৃথিবী সবার ঘর
এটা সত্য হবে।
