মহঃ তোহা সেখ - এর একগুচ্ছ কবিতা
গণনার ভিড়ে
মহঃ তোহা সেখ
অশিক্ষিত লোভি স্বার্থপর লুটেরা
দলে দলে মিলন মেলায় পরিপূর্ণ।
স্বচ্ছ ভালো জ্ঞানী মহাজ্ঞানীরা
নগণ্য নগণ্যতায় থাকে শূন্যের শূন্য।
সংখ্যার অহংকারের দাপট ঔদ্ধত্য দাম্ভিকতা সম্মিলিত তীব্র গর্জন
মেরুদণ্ডহীন গাঢ় ঘন অরণ্য জঙ্গলে ধ্বংস যুক্তিবাদী জ্ঞানের দর্শন
দৃষ্টিহীন অজ্ঞ কানা সুবিধাভোগী ঝোঁকতালে বজ্রস্বরের সাজ।
মান অপমান গঞ্জনা ধিক্কারের নত হয়ে জ্ঞানী গুনির লাগে লাজ।
অন্ধ বিবেকহীন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা
দিকে দিকে ধরে দাঁড়।
আদি মনুষ্য সৃষ্টি প্রথম থেকে
ইতিহাসের পাতায় দেখেছি বারবার।
মূর্খ নাবালক অশিক্ষিত
একে একে জমে পাহাড় শীলাখণ্ডের ভিড়।
একা একলা শূন্য নগণ্য সংখ্যায়
হারে যুক্তিবাদী দর্শন বিজ্ঞানী বীর।
নাবালক জ্ঞানহীন অবুঝ অন্যায় স্বৈরাচারী
বন্ধনে গড়ে ওঠে রব।
সমাজ পরিবার সংসার দেশ সর্বত্র
অহংকারে বলে আমরাই বিশ্বে সব।
ন্যায় কক্ষে
মহঃ তোহা সেখ
আত্মীয় স্বজন আপন পরিবার
হয় যদি তারা রক্ত শিরার নিজ
অকারণে সব সময় বুনে কেন
প্রাণঘাতী ভয়ংকর বিষাক্ত বীজ
হিংসার দাবানলে বেপরোয়া
লিপ্ত উন্মত্তে থাকে আত্মহারা
ঘোষণা শুনে রাখো সেই
অপশক্তি আমার কেউ নয় তারা
রক্তরস হোয়ে দুর্বল হীন নীচু
রাখতে চায় যারা দাসত্বের দাস
সেই সুযোগসন্ধানী নিষ্ঠুর নির্মম
আগ্রাসী শক্তির হোক সর্বনাশ
ন্যায় সৎ বিচারক কক্ষে বুঝি
না মানি না ধর্ম নিজ জাত রক্ত
জেনে রাখো বিশ্বের মনুষ্যগণ
আমি নই কারোর অন্ধ ভক্ত
আবর্জনা
মহঃ তোহা সেখ
অচল মেরুদণ্ডহীন, সুগন্ধের ঘ্রাণ নেই—ঘ্রাণহীন নিষ্ক্রিয় ধূপ,
মনে হয় পৃথিবীর মনুষ্যকূল আবর্জনা জঞ্জালের জঙ্গলে ধ্বংস স্তূপ।
প্রীতি শ্রদ্ধা দয়া মায়া মানবতা জ্ঞান সহনশীল সহনশীলতা শূন্য,
মানুষকে মানুষ মনে হয় মনে করি না—হয়তো তাই এর জন্য।
ভালোবাসা আপ্যায়ন ছোট বড় সম্মান কদর সৎ সততার অভাব,
শোষণ ব্যভিচার ষড়যন্ত্র,হিংসা বিদ্বেষ ঘৃণা হিংসুক স্বভাব।
চলমান সভ্যতার ভিড়ের সাম্রাজ্যে মানুষ কলকল বেড়ে চলে দিন দিন,
মানুষের মত মানুষ নেই কেহ—নিঃস্ব শূণ্য অসাড় কানা অন্ধ বোবা কণ্ঠহীন।
মানুষ কূলে জন্ম নিয়ে প্রেম মানবতা মায়া জ্ঞান মনুষ্যত্বের বড় অভাব,
জীবন লালসা স্বার্থে ভরা আলো আলোহীন শুধু বেঁচে থাকার হিসাব।
লুপ্ত বিলুপ্ত ক্ষয় নিষ্ঠুর ভয়াবহ ভয়ংকর পৃথিবীর সভ্যতার মানচিত্র,
বিশ্বাস ভালোবাসা শ্রদ্ধা সততা মায়ার কেহ নেই মনে হয় মিত্র।
