কবিতা - এস আই আর আবহে প্রেম, কবি - এইচ এম রিয়াজুল হক












এস আই আর আবহে প্রেম
এইচ এম রিয়াজুল হক
বিডিও, মুরারই ১ ব্লক

দেশজুড়ে এস আই আর এর হাওয়া –
মাইকিং, নোটিশ, লম্বা লাইন,
প্রত্যেকে নিজের নামের পাশে
ঠিকানার প্রমাণ জুড়ে দিতে ব্যস্ত।
লিঙ্কেজ যেন বেঁচে থাকারই আরেক নাম,
ভুল হলে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ভয়।
চাপের ভাঁজে কুঁকড়ে গেছে অনেক মুখ,
কারও ঘুম উধাও রাতের পর রাত,
কারও টেবিলে জমেছে নোটিশের ছায়া।
কেউ ভেঙে পড়েছে নীরবে,
কেউ দায়িত্বের ওজন বয়ে
নিজের ভেতরেই হারিয়ে গেছে।
তবু এই কড়া সময়ের মাঝেই
অদৃশ্য এক নদী বয়ে যায়-
তার নাম প্রেম।
একটানা বহুদিন
একই ঘরে, একই বাতাসে,
বিএলও-র খাতা ছুঁয়ে যায় এইআর ও-র আঙুল,
সুপারভাইজারের ক্লান্ত চোখে
চায়ের কাপে জমে ওঠে নরম আলাপ।
ম্যাপিং – এর ফাঁকে ফাঁকে
হাসি গোপনে সাইন নেয়,
‘ডিসপোজাল’ শব্দের ভেতরে
আলতো করে জন্ম নেয় সম্পর্কের আবেদন।
চূড়ান্ত তালিকা নাকি বেরোবে চৌদ্দই ফেব্রুয়ারি –
কেমন যেন কাকতাল!
ভ্যালেন্টাইন দিনে
ভোটারের নামের সাথে
জুড়ে যাবে কারও কারও হৃদয়ের নাম।
কিন্তু সময় বাড়ল আরও এক সপ্তাহ –
যেন নিয়তি বলল,
‘আরও একটু থাকো পাশাপাশি।’
অতএব প্রেমও বাড়ল সাত দিন,
ডিউটির অজুহাতে
চোখের ভাষা শিখল নতুন বর্ণমালা।
আটাশে ফেব্রুয়ারির পর
তালিকা প্রকাশিত হবে,
কেউ বদলি হবে দূর জেলায়,
কেউ নতুন দায়িত্বে –
ফাইলগুলো গুছিয়ে নেবে
এই কয়েক মাসের অপ্রকাশিত স্পর্শ।
তবু যে অনুভূতি –
একসাথে রাত জাগা,
একই ভুল নিয়ে হাসাহাসি,
একই তিরস্কারে নীরব বোঝাপড়া –
সেগুলো রয়ে যাবে
ডেস্কের ড্রয়ারের ভাঁজে,
ডিজিটাল রোলের আড়ালে,
মনের সাদা পাতায়।
প্রেম চিরশাশ্বত-
কেউ তার চূড়ান্ত পরিণতি পাবে,
কেউ হয়তো গোপন রাখবে
ডিউটির ফাইলে ভাঁজ করে।
কেউ ঘরে ফিরবে স্থির জীবনে,
কেউ স্মৃতির কাছে ফিরে যাবে চুপিচুপি।
এস আই আর এর কড়া সময়ে শিখেছি আমরা –
সব লিঙ্কেজ নথিতে ধরা পড়ে না,
কিছু সম্পর্ক
ম্যাপিং ছাড়াই
সারা জীবনের জন্য সংযুক্ত হয়ে যায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url