কবিতা - শ্রমের অনন্ত আলোকরেখা, রচনায়: প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল
শ্রমের অনন্ত আলোকরেখা
রচনায়: প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল
কবি, লেখক, শিক্ষাবিদ ও কথা-সাহিত্যিক
রক্তে ভেজা মে’র প্রভাতে, জ্বলে পলাশের রথ,
ইতিহাসের বুকে জাগে, লাল বর্ণমালার পথ।
অষ্ট প্রহরের স্বপ্নবীজ, মানব জীবন ভাসে,
সময়-নদীর দোলায় যেন, অস্তিত্বের ঢেউ হাসে।
শ্রমিক যেন সূর্যচক্র, অনন্ত তাপের দান,
নিজেই পুড়ে আলো বিলায়, গড়ে সুউচ্চ মান।
তবু তারই গৃহদ্বারে, জমে নিশীথের ক্ষয়,
আলো জ্বালার কারিগরই, আঁধারে ডুবে রয়।
এদিকের নদে স্রোত আছে, তবু তীরে ভাঙন,
বৃদ্ধি আছে সংখ্যায় শুধু, লোকের হৃদয়ে কাঁদন।
নীতি ছাড়া উন্নতির ঢেউ, শূন্যতায় শূন্যের জয়,
জ্যোৎস্না মাখা অট্টালিকা, ভিতরে থাকে ক্ষয়।
শাসনের নাও দুলে ওঠে, অনিয়মের খেলা,
বিচারবিহীন প্রভাত তখন, হারায় নীরব বেলা।
মালিক যদি মালী হয়ে, শ্রমবীজ লালন করে,
ফলন তখন ন্যায়ের শস্য, সুখের আবাস ভরে।
মজুরি যেন জ্যোৎস্নার ন্যায়, ঝরে জীবন তলে,
মানবতার বৃক্ষ সেথা, নীরব সুধা ফলে।
শ্রমিক নদীর অনন্ত স্রোত, নীতি শৃঙ্খলার সুর,
দায়িত্বে বাঁধা অধিকার, শক্তিধর গভীর নূর।
ইউনিয়ন হোক বিবেকতরি, সততা যারই পাল,
স্বার্থবিহীন ঐক্যসাগর, ভাঙে বিভেদের জাল।
চার স্তম্ভ মিলেই গড়ে, সমাজের সেই দেহ,
একটি ভাঙলে ভেঙে পড়ে, সর্ব স্বপ্নের গেহ।
শেষে বলি, শ্রমের আলোই, উন্নয়নের দিশা,
মানবতার ঐক্যতানে, গড়ি ন্যায়েরই তিষা।
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ,
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
কপিরাইট আইনের সর্ব স্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত।
