কবি মোঃ নজরুল ইসলাম - এর একগুচ্ছ কবিতা

 



বনলতা
মোঃ নজরুল ইসলাম


চাঁদনী রাতে বকুল চম্পা চাঁপার মাঝে
খুঁজি বনলতা তোমাকে।

ছাঁয়া নটের চাদর হয়ে
ফুঁটিয়ে তুলেছ নিজেকে।

কি সুনিপুণ লতিকা ও পাতার বাহারে
কেঁড়েছ মন দর্শনার্থীর

ডগার হুংকার তেজ
মায়াবী লাবণ্যে হয় অস্থির।

বড় অবাক লাগে যখন দেখি
তুমি নিরহংকার

টোকাতেই ঝর্ণার  মতন
দাও বিলিয়ে হৃদয় সংসার।

আমি তো শীতে কাবু হয়ে গেছি
বাড়িয়ে দাও কিছু ডগা

উষ্ম হয়ে মেখে যাব
তোমাতে প্রিয় সখা।



অন্ন যোগায়
মোঃ নজরুল ইসলাম

ওরা সকাল সন্ধ্যা
রোদ বৃষ্টিতে ভেজে
ওরা কৃষক দেশের সম্পদ
ধৈর্য ধরে যাই না তেজে
লঙ্কা পেয়াজ পান্তা ভাত
মাঠে খায় আর হাসে
ওরা স্বপ্ন দেখে
প্রতি নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে।
ওরা তোমারও অন্ন যোগায়
বাঁচায় রাখে শক্তি সাহসে
ওরা ঘাম ঝঁরায়
এসেও মৃত্যু বয়সে।
ওরা দেশের শক্তি
সম্মান করো ভাই
ধ্বংস তোমার নিশ্চিত
ওরা যদি অশ্রু ঝরায়।
স্যার সম্বোধন
ওরা জানে না
যে ভাবে যাই বলুক
তবুও তুমি ওদের কাছে দেনা।



মানবি
মোঃ নজরুল ইসলাম

বাঙালি
আর কত হবি দাস,
লেবুর মত নিংড়াচ্ছে
করে সর্বনাশ।
ডাকাতেরা খুলছে দেখ
তোর পরনের কাপড়,
বাঁচতে হলে
এখনই দে দাঁবড়।
তোর মা বোনের সম্ভ্রম নিয়ে
করছে বেদুঈনি খেলা
এর পরও কি তোর বুকে
করছে না জ্বালা?
শত্রুদের হৃদয় ছোট
হুংকার বড়
তুই গর্জে উঠলে
ওদের ভীত করবে নড়বড়।
যুদ্ধের রসদ আর দামামা
সবই আজ অপেক্ষায়
আয়রে বাঙালি
থাকিস না জগৎ মায়ায়।



আজ
মোঃ নজরুল ইসলাম

আমি আজ খ্যাপাটে পাগলা ঘোড়া
অন্ন হীন বস্ত্র ছেঁড়া

রাখ সরিয়ে ফুলের তোড়া
আজ বিশৃংল তেড়া

মানি না এসব আবোল-তাবোল
ছল চাতুরীর বেড়া

মরণ কামড়ে উত্তল
সামনে থেকে সরে দাঁড়া

রক্ত স্রোত লাশের সারি
দেখব কত আর!

রণ-সাজে ঘুরছি
আয়-কে থামাবি আমার!

সৈণিকেরা সব মুখিয়ে আছে
আসবে কখন সিগনাল

কাঁটবে মাথা
খাবে রক্ত জল

স্বাধীনতার নেশায় ধরেছে
কোন পর্বত মালুম হবে না

জিহাদি সালাম কাঁফন কাঁপড় দিয়ে
বিদায় দিয়েছে গর্ভধারণী মা
সে সৈণিক আর
করে কিসের সঙ্কা?
আধার ফুঁড়ে আনব
আলোর ঝংকা।



বল ভাই
মোঃ নজরুল ইসলাম

এই যে অ-মূর্খ লোক
দাঁড়াও ভাই,
কার শ্রমে বড় হয়েছ
বলে যাও আমায়।
কার জঠরে ছিলে
পড়ে কি ভাই মনে?
প্রসবের কত সুখ
এক মাত্র সেই জানে।

তোমার প্রসাবে ভীঁজত তবু
রাখত শুকনো আঁচল কনে।
বসত খেতে,উঠতে কেঁদে
থালা ঠেঁলে ছুটত কার পানে?
সে দিন কি পারতে উঠতে হাঁটতে কথা বলতে?
বল সব শিখিয়েছে কে?
কার দুগ্ধ পানে বেঁচে ছিলে।
লক্ষী সোনা বলে আগলে রাখত কে?
অনাহারে ছেঁড়া বস্ত্রে থেকে
সুন্দর করে রাখত যে তোমায়
বল দেখি আমায়
সে ত্যাগী মানুষ কে ভাই?
মল মূত্রে ধূলো বালিতে
নোংরা থাকতও যদি তোমার গা
শখের পোশাকের উপর
জড়িয়ে ধরে চপটে দিত চুমা।

লালন-পালন করতে গিয়ে তোমায়
ত্যাগ করেছিল স্বামীর আদর
রাত্র জেগে শরীর নষ্ট করে
পাইত না করো কদর।
বল দেখি যে ভাষায় কর মন ভাবপ্রকাশ
শিখিয়েছিল সে বর্ণ
কোন মহা-সমাস
কার অবদানে আজ এ পর্যন্ত
পারবে কি শোধাতে ঋণ যুগ যুগান্ত।
কার কথাতে ঠেলছ তারে দূরে
বুঝবে শূণ্যতা সে যদি যায় দূরে
তুমি এক দিন সেই মঞ্চের
অভিনেতা হবে
অভিনয় কত সহজ
বুঝবে বাস্তবে সবে

না ঘটুক এমন ঘটনা
যা ঘটাচ্ছ তুমি
অশ্রু নয়নে আশীষ করছে
যে ডাকত তোমায় সোনামনি।



নব জোঁক
মোঃ নজরুল ইসলাম

ডাক্তারেরা কশাইগিরি করে না আর এখন

রক্ত চুষে খাই জোঁকের মতন

পরিক্ষা নিরিক্ষা কত রকমের বাহানা

ওদের যেখানে চুক্তি সেখানে ছাড়া ভালো রেজাল্ট হয় না

ঔষধের দোকান গুলোতে বিক্রি হয় ফিজিশিয়ান

ফার্মেসী আর ডাক্তার মিলে নিস্ব করার মিউজিসিয়ান

সমাজে আজও তাদের মানে গুরুজন

সেই দূর্বলতা নিয়ে বেগম পাড়ায় গড়ে আবাসন।

আইন আর প্রশাসন
সব যেন বেসামাল এখন

জনগণের খেয়ে করে দলের দালালি

অন্যায় অবিচার সবই ঠিক ওদের পকেট পোটালি

যে শিক্ষা নিয়ে গড়বে আগামী
সেখানে মেধাহীন গুরুজন অর্থের নিয়োগী

রাজনীতির কথা আর কি বলব ভাই
স্বার্থপর সব অমানুষ ওরাই।

দেশের বারোটা বাজাচ্ছে
বউ বডিগার্ড নিয়ে বিলেতে ঘোরাচ্ছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url