কবি অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় - এর একগুচ্ছ কবিতা

 

অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়












বাবা
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়


তোমাকে নিয়ে আলোচ্যসূচী তৈরি হয় নি
অথচ একটা জীবন শাখা প্রশাখা নিয়ে
কেমন লতানো গাছের মতন
কতটা উঁচুকে ধরতে পারে
তা দেখে বিষ্ময় জাগে।

সারাদিন রৌদ্রজ্বল তাপে দগ্ধ দেহমন
তবু অনুযোগ নেই
ঘামে ভেজা শরীর কীভাবে শুকিয়ে
একটা জীবন শুষ্ক ভূমির মতন হয়ে ওঠে
তা নিয়ে ভাবতে ভাবতে বুকের ভেতর
যাবতীয় মোচড় নিয়ে ব্যথা প্রাপ্ত হয়ে যাই

দৃষ্টির ভেতর কোথাও কোন জলবিন্দু নেই
নিজের কোন প্রত্যাশা নেই
নিজের চাওয়া কোন সুখ নেই
যা,কিছু প্রত্যাশা অপত্যের জন্য
নিরব ঠোঁটের ওপর খেলা করে যায়
শুধু আনন্দভৈরবী....



অসময়ের বৃষ্টি
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়


একটা অপূর্ণ প্রেমের গল্প
জানি কোনদিন এই প্রেম পূর্ণতা পাবে না
তবুও কেন এতো কথা?
কেন এতো উচাটন?
কেন এতো প্রতীক্ষা?

বড় অসয়ে বৃষ্টিপাতের মতো এই প্রেম
মধ্যরাত জুড়ে বৃষ্টি শব্দ
যেন রাতভোর জমা জলে ভেসে যাওয়া

পূর্ণ বসন্ত এখনও দূরে
তবুও যেন ভূমিজুড়ে পলাশ সকাল
কতটা রঙিন হলে বলো
হৃদয় নদীর মতো হয়ে যায়
কুড়িয়ে নিই একের পর এক পলাশ
তবুও  কী যেন এখনও অধরা?

হয়তো এসবের ভেতর দিয়েই
অসমাপ্ত প্রেমের গল্প
বলা হবে কোনদিন
জানি না কে শুনবে, কে শুনবে না?



অনির্বাচিত সময়
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়

অনির্বাচিত সময়ে দুজন দুজনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
অতল দীঘি জলে ঢেউ দেখার মতো।
দুটো অশান্ত পাখির উড়ে যাওয়া।
তারা কতো দূর উড়ে গেল তা দেখতে দেখতে
হঠাৎই দূরত্ব শুরু হল।
অনেকটা ট্রেনের একটা লাইন ছেড়ে অন্য লাইন ধরে চলে যাওয়া।

তারপর অদেখা কাল ক্রমাগত দীর্ঘ থেকে আরও দীর্ঘতম।
যে পথ থেকে বিচ্ছিন্ন সেই পথের ওপর এসে দাঁড়ায়।
তবুও কেউ আর কারও সামনে এসে দাঁড়ায় নি সময় ভুলে।

অনির্বাচিত সময়ে দুজনই দুজনের হয়ে যেতে চেয়েছিল।

©®অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, 
বেহালা, কলকাতা -৭০০০৬০

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url