আত্মত্যাগের আলোকশিখা, কলমে - ডক্টর মোঃ বদরুল আলম সোহাগ
আত্মত্যাগের আলোকশিখা
( শিক্ষিকা মেহেরিন চৌধুরীর স্মরণে)
কলমেঃ ডক্টর মোঃ বদরুল আলম সোহাগ
আজ সেই দিনের আলো এসে নীরব কাঁদে আকাশপানে,
জন্ম নিয়েছিলে তুমি মমতার রঙ মেখে প্রাণে।
মানবতার কন্যা তুমি, স্নেহের অশেষ ছায়া,
শিক্ষার্থীদের ভালোবেসে গড়েছিলে স্বপ্নমায়া।
উত্তরার সেই প্রিয় প্রাঙ্গণ, মাইলস্টোনের আঙিনায়,
তোমার কণ্ঠে জেগে উঠত আশার গান প্রতিদিন হাওয়ায়।
শুধু শিক্ষক নও তুমি, ছিলে পথের দিশারী,
অন্ধকারে জ্বালিয়ে যেতে আলোর দীপ ভারী।
হঠাৎ এল কালো মেঘ, বেদনায় ভরা মন,
এক বিমান দুর্ঘটনায় থেমে গেল স্পন্দন।
কিন্তু তুমি থামোনি তবু, ভয়কে দাওনি স্থান,
শিশুদের বাঁচাতে উৎসর্গ করলে নিজের প্রাণ।
একটি নয়, দুটি নয়—অগণিত প্রাণের তরে,
মায়ের মতো বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলে বিপদঘোরে।
অন্তত বিশটি শিশুর চোখে ফিরিয়ে দিলে ভোর,
নিজে গেলে দূর আকাশে, রেখে গেলে কান্নার ঘোর।
তোমার সাহস শেখায় আজ মানবতার মানে,
কীভাবে ভালোবাসা জাগে আত্মত্যাগের গানে।
রাষ্ট্রও মাথা নত করেছে তোমার মহিমায়,
স্বাধীনতা পুরস্কারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে গভীর মমতায়।
বন্ধু তুমি, হৃদয়জুড়ে আজও তোমার বাস,
তোমার স্মৃতি নিঃশব্দ রাতে জাগায় দীর্ঘশ্বাস।
তবু বেদনার মাঝেও তুমি অনন্ত প্রেরণা,
ভালোবাসা আর সাহসের উজ্জ্বল এক ঠিকানা।
হে আল্লাহ, কবুল করো এই আত্মার পবিত্র দান,
জান্নাতুল ফেরদৌসে দিও তার শ্রেষ্ঠ সম্মান।
যে জীবন দিয়ে শিখিয়েছে মানুষের পাশে থাকা,
তার রূহে বর্ষিত হোক শান্তির অফুরান রাখা।
মেহেরিন, তুমি হারাওনি—রয়েছ হৃদয়ের মাঝে,
তোমার ত্যাগের আলোকশিখা জ্বলবে যুগের সাজে।
