সাদ সামিন হোসেন - এর একগুচ্ছ ছড়া
তারা যেন কর্মঠ
সাদ সামিন হোসেনআমাদের মাঠ ভরা
শ্যাম রঙ শস্যতে
নায়ে চাষি বহে ধান
উপনদে জলস্রোতে।
ঢেউ উঠে ফুলে ফুলে
খেলা করে জলে হাঁস
প্রাঞ্জল মানুষের
এক সাথে গ্ৰামে বাস
পাখিদের সুর আসে
ভেসে ভেসে ঊষাকালে
পুষ্পের গন্ধতে
অলি বাসা বাঁধে ডালে
।
লোকজন যায় মাঠে
তারা যেন সৈনিক
পাখিদের কলোরবে
উঠে ভোরে দৈনিক।
শস্যের ঘ্রাণ ছুটে
বিস্তৃত সারা মাঠ
দক্ষিণে নদী আছে
দুই তীরে ভাঙা ঘাট।
গ্ৰামে হয় বেচাকেনা
দূর থেকে আসে লোক
উপযোগী পরিবেশ
তারা যেন সার্থক।
চারিদিকে ঘেরা গাছ
শ্যাম রঙে আঁকা ছবি
ফাঁকে ফাঁকে দেখা যায়
পুব দিকে উঠে রবি।
শ্রমিকেরা করে কাজ
মাঠে মাঠে সারাদিন
তারা যেন কর্মঠ
সহৃদয়, অমলিন।
দেখিতেছি তীরে
সাদ সামিন হোসেনদেখিতেছি তীরে
ডিঙা ধীরে ধীরে
চলিছে অহর্নিশ
চারিদিকে মাঠে
খেলিতেছে পাটে
সোনালী ধানের শীষ।
শ্রমিকেরা শ্রমে
যেন হরদমে
কাজ করে দিন-রাতে
মাটি কাটে আর
কর্মে তাহার
দল বাঁধে এক সাথে।
দুই তীরে গাছে
কত পাখি আছে
করিতেছে কলরব
বহিতেছে হাওয়া
কত আসা যাওয়া
মাঠ ভরা গম,যব।
কালো মেঘগুলো
উড়িতেছে ধুলো
অশনিরা বিষে গড়া
ভাবিতেছি তীরে
মহা ''ধরা''টিরে
''মনোরম'' – যেন ভরা।
কোকিলের সুর
গানে ভোরপুর
রঙ মাখা বুলবুলি
মধুকর উড়ে
দ্যাখে ঘুরে ঘুরে
বাগানের ফুলগুলি।
এ ভুবন যেন
নীলে ভরা হেন
পুলকিত মন তাতে
অবিরাম তীরে
দেখিতেছি নীড়ে
অলিরা থাকে না তফাতে।
এক সাথ ছাড়া
যায় না কো তারা
মেলামেশা করে থাকে
দেখিতেছি তীরে
মধুমাছিটিরে
বাসা যেন ঘিরে রাখে।
দারুন সোচ্চার
মৌমাছি আর
পিপীলিকা দল বেঁধে চলে
ভাবিতেছি আজ
মানব সমাজ
সমরে ও কৌশলে।
তীরে দেখি ব'সে
ভাবি আপসোসে
ছুটিতেছে শোকে মন
শোনা যায় কানে
বিচলিত প্রাণে
কাননের ক্রন্দন।
কাঠুরিয়া কাটে
নদী-তীরে মাঠে
তাজা তাজা গাছগুলো
গ্ৰাম্য জীবন
করিলে নিধন
উড়িবে সদায় ধুলো।
গ্ৰাম্য পরিবেশ
সাদ সামিন হোসেননদী পাশে গ্ৰামখানে
ছোটো ছোটো ঘর
বর্যায় ডুবে আছে
নদীর দু'চর।
পারাপার করিতেছে
মাঝি নায়ে তার
গ্ৰাম থেকে লোকজন
এপার ওপার।
বাদলের জল এসে
থৈ থৈ করে
জলজীবী জাল দিয়ে
নদে মাছ ধরে।
ক্ষেতে চাষি শ্রমে আছে
দুলিতেছে ধান
নদী-তীরে দেখি যেন
ফুলের বাগান।
ঢেউ -এ ঢেউ-এ ডিঙা দুলে
মাছরাঙা গাছে
ঘোলা জলে দল বেঁধে
খেলা করে মাছে।
মাঝি নায়ে গান গায়
যায় ভেসে দূরে
তন্ময় গানে হয়
নাবিকের সুরে।
পাখি ডাকে ঝাঁকে ঝাঁকে
ছায়াময় ডালে
শিন শিন বায়ু বয়
শীতের সকালে।
মেঘে ঢাকা চারিদিক
কুয়াশায় ভরা
মাঠে নদে দুটি তীর
কাশফুলে ছড়া।
ঘুম নয় আর
সাদ সামিন হোসেনলোহিত বরণে রবি উঠিয়া হাসিছে
ডানা মেলে আলো তার ভুবনে আসিছে।
পরিমলে অলিগুলো উড়িয়া উড়িয়া
রস নিতে ফুলে বসে এক সাথে গিয়া।
পাখিগুলো উড়ে গেল পুব দিকে মাঠে
ঘুম ছেড়ে মন দে রে নিজ বই-পাঠে।
কেহ নাই বিছানায় দেখ চেয়ে ঘুরে
টিয়া পাখি ডাকিতেছে সুমধুর সুরে।
বহিতেছে মিঠা হাওয়া দক্ষিণে দেখ
মুখ ধুয়ে,বই নিয়ে নির্জনে লেখ।
মনে মনে বই আপনে পড় ধ্যান দিয়া
বাসা ছেড়ে উড়িতেছে কাননের টিয়া।
শ্রমিকেরা ক্ষেতে গিয়ে শ্রম দিছে চাষে
পাল তুলে ডিঙা দুলে চলিছে বাতাসে।
আর নয়– সদাশয় রাখো মনে সব
রোদ পেয়ে দ্যাখে চেয়ে নব পল্লব।
অলসতা ছেড়ে উঠো ঘুম নয় আর
হাঁস জলে খেলিতেছে কাটিয়া সাঁতার।
একে একে সব উঠিয়া ভুবনের মাঝে
ঘুম ছেড়ে ক্ষেতে গেল নিজেদের কাজে।
তারাগুলো নিভে গেল জ্বলে না কো আর
চারিদিক সবই ঠিক খুলে দেখ দ্বার।
সবুজ মাঠ
সাদ সামিন হোসেনসারি সারি গাছগুলো
নদী-তীরে দাঁড়ি
য়েমাঝি গান ধরে টান
হাত দুটি বাড়িয়ে।
ঢেউ-এ ঢেউ-এ করে খেলা
জলে ডুবে পাতিহাঁস
ঘর বেঁধে লোকজন
করে তীরে বসবাস।
গ্ৰামবাসী সবই চাষি
মাঠে তারা করে কাজ
সকালে উঠিয়া গায়ে
পরে যেন মেঠো সাজ।
প্রভাতের আলো ফুটে
উঠে আসে চারিদিক
মাঠে মাঠে প্রত্যহ
করে কাজ দৈনিক।
কোকিলের কুহু ধ্বনি
শোনা যায় প্রভাতে
মাঠে মাঠে ফুল ফুটে
মুগ্ধ সে শোভাতে।
ক্ষেত ভরা শস্যতে
নদী স্রোতে বহে জল
সরোবরে ফুটে আছে
বিস্মিত শতদল।
মাঠখানা সবুজ আর
গাছে গাছে ফুটে ফুল
আঁকা বাঁকা পথ ধরে
যায় বধূ নদী-কূল।
