ফিরোজা বেগম - এর একগুচ্ছ কবিতা
আব্বা
ফিরোজা বেগম
নতুন করে কেমনভাবে জানাবো আমি শ্রদ্ধা
পিতৃ দিবস এলো বলেই মাতলো এই বসুধা
আমার সারা হৃদয় জুড়েই মহান তাঁর অস্তিত্ব,
বৃহৎ এই ধরণীতে বিশাল এক ব্যক্তিত্ব!
আবেগভরা,শান্তমনা, গম্ভীর সেই পৌরুষ
উছলেপড়া স্নেহমায়া,ভালোবাসায় নিষ্কলুষ।
মনে পড়ে সেই মিষ্টিমধুর দুরন্ত ছেলেবেলা
সেবার নামে পিঠের 'পড়ে নাচানাচি খেলা।
শীতের দিনে দেশের বাড়ির আখের গুড়ের শাল
গ্ৰীষ্মে আবার বাগানজুড়েই আম কুড়োবার তাল,
সবকিছুরই সাক্ষী তিনি মনের অগোচরে
অনুভবেই হাজির যেন সেই দীঘিরই পাড়ে।
কোন্ অভিমানের বশে দূরে গেলেন সরে
বিক্ষুব্ধ হৃদয় আজ ও আছে দীর্ঘশ্বাসে ভরে।
আমরা সবাই বেশ আছি সয়েও ঝড়ঝাপটা
মাথার চুলে আজ ও যেন ছুঁয়ে আছে তাঁর হাতটা!
মহা-সংগ্ৰামী
ফিরোজা বেগম
অনেক রক্ত ঝরিয়েছ তোমরা
সীমান্তের ওই বীর
মায়ের মান রাখতেই হবে
সেই লক্ষ্যেই স্থির।
অশান্ত ওই ঢেউ সাগরের
নিপুণ সাঁতারু পায় ভূমি,
ঝাঁপিয়ে পড়েছো দেশের তরে
বাঁচাতেই নিজ জন্মভূমি!
দেশরক্ষার মহা সংগ্ৰামেই
হয়েছো তোমরা মহান
তোমাদের ত্যাগে সুখী আমরা
পাবে ঠিক প্রতিদান।
জীবনের উপলব্ধি
ফিরোজা বেগম
খোলা জানালার সামনে দাঁড়িয়ে
দেখি শরতের নির্মল আকাশ ঝলমল
বুক ভরে শ্বাস নিই একাএকা।
কখন ও বৃষ্টি, কখনও ক্ষরা
ভাবনার গভীরে ডুবে যাই
কি বোঝাতে চায় প্রকৃতিরানী?
জীবনের রোদ- বৃষ্টির এই লুকোচুরি
এটাই বাস্তব, জীবনের ও কথামালা!
আপাত শান্ত জীবন, ভিতরে উত্তপ্ত মরুভূমি
কেউ দেখে বোঝেনা মানবের রহস্যময়তা!
প্রকৃতির রহস্যময়তার ভাঁজে ভাঁজে
মানুষের অযাচিত বিস্তর কৌতুহল।
সমাজ, সংসার ভুলে তাই ছুটে চলে
কত অজানা বিপদসঙ্কুল পথে,
উদ্ঘাটিত হয়েছে রাশি রাশি তথ্য।
তবু আজও প্রকৃতি রহস্যময়ী।
ভাবি এ যেন মানুষের ই একটা জীবনপর্ব,
অজানাই রয়ে যায় জীবনের সব রসায়ন
ঠিক যেন শরৎরানীর কান্না হাসির খেলা!
কবি পরিচিতি:
কবি ফিরোজা বেগম - এর জন্ম ১৯৫৯ সালের ৯ ডিসেম্বর। পিতা- মোল্লা আব্দুস সাত্তার ও মাতা- কাজী লুৎফন্নেশা বেগম। তিনি লিখেছেন দৈনিক বসুমতী, বর্তমান, যুগান্তর,পুবের কলম ইত্যাদি পত্রিকাতে। বিভিন্ন লিটল্ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বহু কবিতা এবং প্রবন্ধ। তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। হিন্দী সাহিত্যেও বিশেষ ডিগ্ৰী ও ব্যুৎপত্তি আছে।
তাঁর প্রকাশিত গ্ৰন্থ-"সুখী নজরুল দুঃখী নজরুল", কাব্যগ্রন্থ - 'বর্ণালী'। সাহিত্যের সেবা করতে করতেই আচআচম্বিতে রান্নার দরবারে হাজির হয়েছেন। লিখেছেন "বড় হেঁসেলের বড় রাঁধুনি"।
