সাইকেল, লেখক-আব্দুল মালেক

 

আব্দুল মালেক-এর ফটো






সাইকেল
আব্দুল মালেক


পরিতক্ত ভূঁষার ঘর থেকে একটা সাইকেল বের করা হল। সময়ের তীব্র কষাঘাতে রীন স্পোক টায়ার টিউব কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। সাইকেল তো নয় যেন একটা কঙ্কাল। ঝুলকালি নোংরা আবর্জনায় ভর্তি।

সাইকেলটার দিকে তাকিয়ে আছে তাহের চাচা। মুখে দাড়ি। চোখ মুখ থেকে অদ্ভুত একটা আলো ঠিকরে পড়ছে। অনেক কথাই তার মনে পড়ে গেল। প্রথম যৌবনের ভালোলাগা শশুর বাড়ি থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সাইকেলটা। সেদিন নতুন ছিল দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যেতো। রাস্তায় বেরোলে কতজন সাইকেলটার দিকে তাকিয়ে থাকতো। আর মনে মনে আফসোস করত যদি একবার সাইকেলটাকে ছোঁয়া যেত। কিন্তু অনেকেরই তা স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ছোঁয়া যেত না । সাইকেলটার প্রতি এত যত্নআত্তি একটু নোংরা বালি কাদা পর্যন্ত লেগে থাকত না। 

তাহের চাচার হুকুম সোনা মাত্র আমরা সেই সাইকেলের কঙ্কাল টা ধোয়া মোছা পরিষ্কারের কাজে লেগে গেলাম। আমাদেরকে লোভ দেখানো হলো সাইকেল টা ঠিক করার পর আমাদেরকে সাইকেল চালাতে শিখানো হবে।

কয়েকদিন পর মেকানিকের ঘর থেকে সাইকেলটা নতুন হয়ে আবার ঘরে এলো । দেখে তো আর তাহের চাচার আনন্দের সীমা নেই। সে আবার আগের মতোই ছোট ছেলের মতন এবেলা ওবেলা সাইকেলটা চেপে ঘুরতে লাগলো। 
  আমি একদিন বললাম_ 'চাচা আমাকে একবার সাইকেলটা "দাও।"' চাচা তখন একটা নারকেল গাছের নিচে ঘেমে নেয়ে ক্লান্ত হয়ে সাইকেলটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর মনে মনে কি যেন ভাবছে । আমার কথাটা শোনা মাত্রই সে প্রায় খেঁকিয়ে উঠলো এবং আমাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিল।

আমার সাইকেলে চাপার শখটা কর্পূরের মতো হাওয়ায় উড়ে গেল ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url