গোলাম রসুল - এর একগুচ্ছ কবিতা
রাজহাঁস
গোলাম রসুল
এই আন্দোলনের মধ্যে একটা রাজহাঁস ভাসছে
পথিকরা চাঁদের পথ ধরে হাঁটছে
সূর্য থেকে কাঠের শব্দ শোনা যাচ্ছে
ভোরের উপনিবশটি সরিয়ে নিচ্ছে
এবং মেঘ নিয়ে আসছে একটি উপমহাদেশ
চলো আমরা যাই
সোনার পাত্র করে বয়ে নিয়ে যাই আমাদের ঘৃণা
ছুঁড়ে দিই মুঠো মুঠো বাহুর লাল পিঁপড়ে
একটি তীক্ষ্ণধার তুলে ধরি স্বৈরাচারী আকাশ বিরুদ্ধে
সমুদ্রের তল কিংবা পর্বতের উচ্চতা দিয়ে একটি দৃষ্টি তৈরি করেছি
নিশ্চয়ই আমরা দেখতে পাবো নক্ষত্রদের মধ্যে আমাদের জনজাতিরা বসবাস করছে
------------------------------------------------------
সমুদ্রের সঙ্গে মিশে যাওয়া এক জনসংখ্যা
গোলাম রসুল
আমি এমন ক্ষুদ্রতম নামহীন মানুষ যে আমার হাজার হাজার ছায়া সমুদ্রে বিচূর্ণ হয়ে গেছে
কাল রাতে অসংখ্য পিঁপড়ের মস্তিস্কের মতো আমি ঘুমাতে পারি নি
কাল রাতে সমুদ্র টিলায় বসবাস করা এক ছোট্ট বাতাস আমার সঙ্গ দিয়েছিলো
আমি স্বপ্ন দেখছিলাম এক কুয়ো ধ্বংস হচ্ছিলো সমুদ্রে
এবং নকল সূর্যটি পালিয়ে যাচ্ছিলো আকাশ থেকে
জোয়ারের উপরে একটি পাটাতন যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে পৃথিবী থেকে অনেক দূরে
যেখানে চাঁদের মাংস ভক্ষণ করছে কিছু আকাশ জানোয়ার
আমি সমুদ্রের সঙ্গে মিশে যাওয়া এক জনসংখ্যা
আমার চোখের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য ঝিনুক শামুক
আমার শরীরের লোমগুলো পাল তুলে দিয়েছে
অতীতের আমার সমস্ত মৃত্যুগুলো এক ভয়ংকর জলাধারের মতো সব রক্ত ধরে রেখেছে
আমার অশ্ব নাভি এখনো মরে নি
এক বিষাদ
যেখানে লুকিয়ে রয়েছে এক গর্ভঘর
যেখানে জন্মাচ্ছে হাজার হাজার ছায়া
আমি হাজার হাজার ছায়ার সঙ্গে সমুদ্র আলোয় বিচূর্ণ হতে চাই
--------------------------------
ক্ষুধার গ্রহ
গোলাম রসুল
যে পাত্রে চিরন্তন বিশৃঙ্খলা
সেটা ক্ষুধার সোনালি মানচিত্র
পৃথিবীর থেকে অদ্ভুত বড়ো এক গ্রহ
আর একটি কবরের থেকেও সংক্ষিপ্ত নির্মাণ পৃথিবীর
ক্ষুধার গ্রহ
অস্তিত্বহীন সময়
একটা বিকৃত মুখ ধূসর
আমার রোগশয্যার কাঁচে একটা একটা করে লিখছি আত্মীয়দের নাম
মরা গাছের ডালে ছড়িয়ে রয়েছে মহাবিশ্বের বিভ্রান্তি
গ্রামগুলোয় মোতায়েন করা সৌরলোক
আহারে
ওষুধে
ছাইয়ের রক্তে ফুটে উঠেছে জীবন
জঙ ধরা কনুই থেকে লোহার শব্দ উঠে আসছে
ঘৃণার মধ্যে ভালোবাসার এত বাড়াবাড়ি
তাড়াতাড়ি একটা অসম্পূর্ণ শিল্পের মধ্যে ঢুকে পড়ো
দেখো কিম্ভুতকিমাকার এক তৈলচিত্র
আমি ঘামছি দেখো সমুদ্রের মতো
আমার গলায় বেঁধে আছে পর পর নৌকার সারি
আমার ভাতের নাম সবুজ ধুলিকণা
একটু সময় ছিনিয়ে নাও
দেখো রাজার ভূত তাড়া করছে শহরকে
চাঁদকে বন্দি করে রেখেছে সোনার খাঁচায়
রূপকের বালিয়াড়িতে ভেসে উঠেছে জলের কুমির
জনারণ্যের কুঠার
আমাকে সেদ্ধ হতে দাও আগুনের কবিতায়
একটি পাত্রে রাখবো আমার জিভ
জীবনের উত্তরদিকে আমার মাথা
আর পাল তোলা শস্যের জাহাজগুলো নিয়ে দক্ষিণ দিকে বয়ে চলেছে আমার রক্তধারা
------------------------
