আলী সোহারব - এর একগুচ্ছ কবিতা
কবির পরিচিতির জন্য এখানে ক্লিক করুন
আলী সোহারব, পিতা-মৃত মোঃ হায়দার আলী, মাতা-মৃত মোছাঃ নুরজাহান বেগম। তিনি ০৫/০৬/১৯৫৮ খ্রিঃ ভারতের পশ্চিম বঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত দূর্গাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার অন্তর্গত মহৎপুর গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি ডাক বিভাগে কর্মরত ছিলেন, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত এবং তিনি বর্তমানে নিম্নে বর্ণিত সাহিত্য সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন।
- দক্ষিণ বাংলা লেখক ফোরাম – গণসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক, সাতক্ষীরা জেলা শাখা
- সাধারণ সম্পাদক – গাঙচিল সাহিত্য পরিষদ, কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা
- সাধারণ সম্পাদক – জেলা সাহিত্য পরিষদ, কালীগঞ্জ উপজেলা শাখা
- কালীগঞ্জ হতে প্রকাশিত সাহিত্য ম্যাগাজিন খড়কুটো পত্রিকার সম্পাদক
সাহিত্য পুরস্কার:
- বাঁধন হারা সাহিত্য পুরস্কার – ২০০৫
- খানবাহাদুর সাহিত্য পুরস্কার – ২০০৮
- কবি সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার – ২০০৯
- নক্ষত্র সাহিত্য সংসদ, ঢাকা থেকে বিচারপতি মাহাবুব সম্মাননা পুরস্কার – ২০১০
- রংপুর সাহিত্য সম্মাননা ক্রেস্ট – ২০১৪
- ভারতের নদীয়া হতে জলঙ্গী সাহিত্য সম্মাননা ক্রেস্ট – ২০১৫
- পূষা সাহিত্য পুরস্কার – ২০১৫
- সহ আরও অনেক সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।
মনের মানুষ
আলী সোহারব
তোমার মনের দুঃখ খানি
ভাগ করে নিই কেমনে,
মনের মধ্যে সুখ পাখিটি
সুপ্ত আছে যেমনে।
একটু খানি নাড়া দিলে
জেগে ওঠে ভাই,
আমার মনের মানুষ খানি
কিন্তু পাশে নাই।
হা হু তাসে মরি আমি
এই জগতের মাঝে,
কেমনে আমি কাটাই দিন
সকাল বিকাল সাজে।
একা একা চলার পথে
মনে আঘাত পাই,
আপন মনে খুঁজে আমি
মনের মানুষ তাই।
প্রতীক্ষা
আলী সোহারব
সেই কবে চলে গেছো
বহুদূর দেশে,
আজও একটা সংবাদ
দাওনি কেন আমাকে।
বাসর ঘরে বলেছিলে
তোমার সুখের জন্য
চাকরির খোঁজে,
চলে যাচ্ছি অনেক
অনেক দূরে।
ঘড়ির কাটার মতন
টিকটিক করে অনেক সময়
পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ
নিঃশ্বাসের মতো,
তবুও তুমি এলে না।
মন যে মানে না
তোমার কথা মনে করে
এখনও বেঁচে আছি।
হাতের কাঁকন ঝরে নি
এখনো পথ পানে চেয়ে আছি
সারারাত দিন-যেন
কেটে যায় আমার,
আধো আধো ঘোরে -
তোমার স্বপন দেখে।
দিন যে কাটেনা মোর
তোমার অপেক্ষায়,
প্রতিটি মুহূর্ত গুনি দিন, প্রহর
তুমি সেই নতুন বেশে
আসবো আমার পাশে
তাই আছি সব সময়
তোমার প্রতীক্ষায়।
আমার দেশ
আলী সোহারব
আমার এই দেশটাকে আমি
কত ভালবাসি।
সবুজের সমারাহে তার
হৃদয় ভরা হাসি।
গাছ-গাছালি ভরা দেশ
মেঠো পথ দিয়ে।
চলে গেছে বহুদূর সে
মন কেড়ে নিয়ে।
পাখ-পাখালি গানে গানে
সুর বাঁধে তার।
বিনা সুতায় বাঁধা যেন
সাত নরী হার।
ভাটিয়ালির সুরে মাঝি
ভাটির টানে গায়।
তার নায়ে গাঁয়ের বধু
বাপের বাড়ি যায়।
পৌষ মাসে শ্বশুর বাড়ির
দাওয়াত পায় জামাই।
যাবার পথে ভ'রে যে নেয়
সঙ্গে মিষ্টি মিঠাই।
গাঁয়ের বধুর মেঠো পথে
জল আনার জন্য
কলসি কাঁখে পুকুর ঘাটে
সে ছবি অনন্য।
রাখাল ছেলে গরু নিয়ে
বাড়ির পথে ধায়।
পাখির দল ডানা মেলে
বাসার পানে যায়।
গোধূলি বেলার অপরূপ মায়া
কেমন করে বুঝাই।
আমার এ দেশখানি ভাই
কোথাও তুলনা নাই।
তৃষ্ণার দিগন্ত
আলী সোহারব
ধূসর মরুভূমির পথে চলছি
কাফেলার সাথে যেতে হবে
বহুদূর। যানবাহনহীন মরু,
পাথরের নূড়ি বিছানো বিস্তৃত
চলার পথে কোথাও যেন বিশ্রামের
কোন আবাস স্থল নেই। দূরে দূরে
একটি দুটি গাছ যেন পাতা বিহীন অবস্থায় মৃতের মত যেন দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার কোন অবকাশ নেই, পিপাসা নিবারণের জন্য জলের কোন
ব্যবস্থাও নাই। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। তবুও গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে এই প্রত্যাশা,
সাথিরা সবাই কাতর ক্ষুধা আর পিপাসায়।
এক ফোঁটা যদি জল পাওয়া যেত, তবে গলাটা ভিজিয়ে নিয়ে একটু চলা যেত কিছু দুর।কিন্তু কি ভাগ্য, কাফেলার কারো কাছে পিপাসা নিবারনের জন্য এক ফোঁটা জলও নাই।
কিভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব জানি না।
মনকে শক্ত করে চলতে হবে
এ যেন তৃষ্ণার বিস্তীর্ণ এক দিগন্ত।
শ্রাবণ
আলী সোহারব
শ্রাবণের বারি ধারা
ঝরে অবিরত,
ঝর ঝর সারাদিন
জলরাশি কত।
তবু যেন ভীষণ গরম
যায় নাতো সওয়া,
এরই মাঝে এনে দেয়
একটু খানি হাওয়া।
চলাচলে অসুবিধা
গা ভিজে যায়,
তবু যেন মনের মাঝে
শান্তির পরস পায়।
খাল বিল ভরে আছে
শুকনা কোথা পাই,
এমন দিনে যায়না থাকা
একলা ঘরে ভাই।
কদম কেয়া ফুটে আছে
গন্ধ ছড়ায় রাতে,
আজ নিশিতে ঘুম নেই
আমার আঁখি পাতে।
