গোলাম রসুল - এর তিনটি কবিতা
নৌকার ভূদৃশ্যে
গোলাম রসুল
আমি নৌকার ভূদৃশ্যে ভেসে যাচ্ছি
আমি মহাকাশের সেতু
আমি মহাকালের এক মাটির ঘণ্টা
আমি একটি স্বদেশ চুরি করবো
সবাই যখন দেশপ্রেমের কথা বলে তখন আমার বলার কিছু থাকে না
আমি একটি জাতিপুঞ্জ তৈরি করবো
এবং সেটা হবে আকাশের নক্ষত্রপুঞ্জের মতো
দিগন্তে একটা বিদ্যুতের কাঠামো ছাই হচ্ছে
নৌকাগুলো এমন ধাক্কাধাক্কি করছে যেন ঈশ্বর ওদের একার সম্পত্তি
জল আমার জীবন
এই জলে আমি হোমার থেকে কালিদাস অবধি একটি রেখা টানবো
মেঘ ডাকছে
বৃষ্টি পড়ছে
যে জলে আকাশের সমস্ত জনজাতিরা বিগলিত হয়েছে সেই জলের একফোঁটা আমি পান করবো
আমি সেই সেতু যা মহাশূন্যকে রক্ষা করে দাঁড়িয়ে রয়েছি
মূর্তির শরীরের জ্বর
গোলাম রসুল
যখন সন্ধ্যা হয় তখন আমার ভিতর থেকে আরও একটা সন্ধ্যা নামে
দুটি সন্ধ্যার মাঝখানে আমি আয়না নিক্ষেপ করি আর দেবদূতরা নেমে আসে
সূর্যাস্তের সঙ্গে মিশে গেলো জীবন
তারার সবুজ তীরভূমিগুলো যখন জেগে উঠলো আমরা অনুভব করলাম সেই সব মানুষদের যারা জীবনসমুদ্রের ওপারে হারিয়ে গেছে
যারা ফিরবে না আর কোনোদিন
ত্বকে অনুভব করলাম শীতল মৃত্যু
মনে হলো আমরা একটি নৌকা করে ভ্রমণ করছি
আর দিগন্তের ওপার থেকে সারমেয়দের কণ্ঠস্বরের সাথে নাটকগুলো বার বার ফিরে আসছে
আমি একটি মূর্তির শরীরের জ্বর অনুভব করলাম
এবং মৃতদেহগুলো আত্মাকে বাজি ধরছে
গর্ত থেকে প্রাচীন বাতাস বেরিয়ে আসছিলো
একটি সরুগলি দিয়ে নিজের মধ্যে প্রবেশ করছি
আর কিছুটা এগিয়ে গেলে মহাবিশ্বের খাঁজগুলো চোখে পড়বে
এবং সব কিছু অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মতো
জানোয়ার মিশ্রিত অসীম রাত্রি
একটি বিশাল ফাঁকা মাঠ
প্রকাণ্ড বৃক্ষ
এখানেই শেষ হয় আমাদের খোদাই করা শিল্পের
এক শিশু বহন করছে এক গল্পের মৃতদেহ
গোলাম রসুল
ধূসর পালকটি বাজপাখির
যেটা শাসন করছে আকাশের কেন্দ্রকে
আর আমরা বাতাসের গর্ত থেকে পড়ে যাচ্ছি
এক শিশু বহন করছে এক গল্পের মৃতদেহ
পাখনা তার অমোঘ সুতো দিয়ে অনবদ্য সেলাই করছে প্রবালের সারিগুলো
শুকনো কুয়োগুলো গান গাইছে
ছদ্মবেশী গান
