অরবিন্দ রপ্তান - এর গুচ্ছ কবিতা
অনন্য যাত্রা
অরবিন্দ রপ্তান
জীবনের এই যাত্রা পথ কভু নাহি তার শেষ,
কলের গন্ডি পেরিয়েএই চলা প্রস্থান সমাবেশ।
অনন্য যাত্রা জীবনের মৃত্যু অক্ষরে লেখা,
ভিন্ন হতে ভিন্নতর শেষ নির্মিতার ছবি আঁকা।
চড়াই উতরাই জীবনের সহস্র সংগ্ৰামী সোপানবলী,
নিশ্চুপ হয়ে র্নিলিপ্ত হারিয়ে যাবে চির সর্বস্য ভুলি,
ঘন তমময় নিবিড় সংসার অরণ্য মাঝে কর্ম ওকাজে,
জীবনের জয় পরাজয় সকল রাখি অনন্য রূপসাজে।
শত্রুমিত্র কেহ রহিবে নাআর মুদিত নেত্রপটে দুষিতে,
সকলে বিলাপ শুভেচ্ছা বর্ষিবে চিরন্তন সন্ন্যাস পথে।
অপত্য অশ্রু বিসর্জনে অনন্যযাত্রা পথে নীরব পথিক,
কুসুম শয্যায়,শুভ্র বসনে, নয়নে তুলসী, শিল্প গথিক।
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে মহানাম শেষশ্রদ্ধা বিনীত
শুধু হরিনামসার শেষ জপনাম জীবনের শেষ গীত।
পাষান কায়া বহি চির অমরারপথে স্বেচ্ছা অগ্ৰসার,
জীবনের শেষ একবার আসে, আসিবে মৃত্যুর পর।
অনন্য যাত্রার লাগি সাজাবে শ্মশান গোরস্থানগার,
সবকিছু ছেড়ে যেথা শেষটুকু ঠাঁই , শূন্য নিরাকার।
পৃথিবীর এক কোনে প্রতিবাদ হীন থাকিবে না কথা,
শুধু শোক, স্মৃতি,শ্রদ্ধা, অশ্রু বিরল ভাব আকুলতা।
শেষ শ্রদ্ধা, প্রণাম, মুখোগ্নি দেবে মিলিতে পঞ্চভূতে,
অবিনশ্বর আত্মা যেথা হতে আসে, সেথা ফিরে যেতে।
মহাকালের এ সত্য লিখিত জন্ম যখন লভিছে নর,
অনন্য যাত্রা পাবে এক দিন মৃত্যু যখন চোখের পর।
রাত্র যতই গভীর হোক
অরবিন্দ রপ্তান
রাত্র যতই গভীর হোক পরিক্রমন পথে
অন্ধকারের চক্র ঘুরবেই,
পূবে প্রত্যাসন্ন আলোর দিগন্তে পুনঃ
নবীন সূর্য্য সময়ে আসবেই।
নীড় হারা পাখিদের কলো কল্লোলে পুন
সব মলিনতা মুছে জাগিবে প্রাণ,
প্রকৃতির বুকে ধ্বনীবে যে পুন চেতনার রঙে
সবুজ সমারোহে মিলনের জয়গান।
দুঃখের যত কালি মুছে যাবে সংগোপনে,
মনে রাখিবে না কেহ তার চিরতরে,
আলোওআঁধার সবার জীবনে একসুরে বাঁধা
দিনে দিনে সব ঘুচে যাবে নিরাকারে।
জয় -পরাজয় সব ই ক্ষণিকের মিছে খেলা
চির অমরতা বলে কিছু নেই হেথা,
আসিবে যাইবে সকলি কালের সোপানে
দিন ধারাপাতে সব হবে নীরবতা।
মানি পরাজয়,ধৈর্যের করি সহায় সর্বংসহা
তাদেরি ভাগ্য লেখা জীবনের জয়,
দুঃখের রাত্র সে যতই হোক না অন্ধকার ঘোর
শিয়রে তার নুতন সূর্যালোক অভ্যুদয়।
রাজা সাজা তোমার হবেই হবে
অরবিন্দ রপ্তান
তুমি প্রতিবাদী, প্রতিবাদের তুলেছিলে ঝড়,
জনগনের ক্ষমতা নিয়ে ভেঙেছিলে অত্যাচারী গড়।
খেলা খেলা কত ই খেলা খেলার হেলা ফেলা
অহংকারের খেলার মাঠে তোমার খেলাই একলা।
যে খেলাতে জিত পেয়েছো, হিত পেয়েছো তুমি,
আজকে কেনো সেই খেলাতে,শূন্য তৃণ ভূমি।
তুমি সবার মনের রাজা, ছিলে রাজাই সবার সার,
সবাই ছিল দাসনুদাস, চারিপাশে ঘুরতো চক্রাকার।
ভয় ওছিলো ভক্তি ছিলো, শক্তি তোমার ছিলো সত্যকার,
আজকে কেনো চারিদিকে সমালোচনা তীক্ষ্ম ভয়ংকর।
ভাঙছে কেনো লৌহ কপাট, পুলিশি বেড়াজাল,
গণ বিক্ষোভ কেনো, কিসের তরে জনতা উত্তাল?
ছিলে তুমি প্রতিবাদী, গড়েছিলে গন দেবতার গড়,
সেই প্রতিবাদেই দেখছি কেনো শিকল ছেঁড়ার ঝড়।
প্রতিবাদেই শুনতো কথা গণদেবতা এটাই ইতিহাস,
কিন্তু, কি যে হয়ে গেলো, ভাবতে লাগছে অবিশ্বাস।
গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে, দৈত্যদানব সঙ্গে নিয়ে তবপ্রহসন,
রাজা সাজা তোমার হবেই হবে, দেখবে বিশ্ব জনগণ।
©®অরবিন্দ রপ্তান,
গ্ৰাম --এ্যানপুর, পোষ্ট - জেমস্ পুর
থানা --সুন্দরবন কোস্টাল, ব্লক-গোসাবা, দ:২৪ পরগনা, পিন-নং ৭৪৩৩৭০
