আব্দুর রহমান - এর একগুচ্ছ কবিতা

 

আব্দুর রহমান - এর ফটো











ভালবাসার মুখ
আব্দুর রহমান

দেশ মানে কি কাঁটা তার
দেশ মানে সরকারি ফরমাস
দেশ মানে শুধু মাটি নদী পাহাড়
এক গুচ্ছ আমি-র ইচ্ছে?

এত পাওয়ার কথা চেপে বসে
নৌকা ভর্তি লালসা পণ্য
  জেটি মুখ অধরা
তবুও একের পর এক জাহাজ
নদী সমুদ্র বন্দর দখলের নেশা

শূন্য আরণ্যক শূন্য অনন্ত
পতনের চিহ্নগুলো
শূন্যতায় ডুবে যায়
আর আমার বুকের উপর শুয়ে থাকে
একজন, বেড়াই খুঁজে পথহারা সৈকত।
বহতা নদীর নীরে জীবন সে খুঁজে
খুঁজে সে মাটির বুকে নিজের হৃদস্পন্দন
খোলা হাওয়ায় নদী নালা পাহাড় আকাশে
ঘাসের উপর নির্ভরতা;ইজমে নয়
‌ ডিসকোর্স ন্যারেটিভ নয়, রক্তে মেশা
জনম ভূমির ক্যাকটাস। নতুন সম্ভাবনা।
হয়ত নীলনদ সিন্ধু গঙ্গা বিপাশার মুখগুলো।
ভালবাসার মুখগুলো।
         ***



যন্তর মন্তর
আব্দুর রহমান

যন্তর মন্তর
ঘাসে ঢাকা থেকে দেয় কথার জন্ম
রচনা করে আমার তোমার তাদের মর্ম কথা
অধিকার সম্পাদনা
স্বপ্ন পূরণের পথ
ইতিহাসের পাতায় বার বার উঠে আসে
যন্তর মন্তর পথ
একদিন জয়প্রকাশ জাগায় ভারত
ভারত আমার অগ্নিগর্ভ
প্রসূতি মায়ের রত্নগর্ভা
ওয়াংচুক বার বার আসে
জীবনের গান করে পরিবেশন
শক্তির উৎস থেকে শুরু
শেষ নেই শেষ নেই শেষ নেই।
           ****



যারা খড়কুটো নয়
আব্দুর রহমান

চুপ করে থাকা
নাও হতে পারে
'মৌনং সম্মতি লক্ষণম'

ঝড়ের ঝাপটায়
মেঘে ঢাকা সূর্য হলে
হিসেব ভেসে যেতে পারে
সাগরের বুকে

  দক্ষিণ আফ্রিকায়
   দেখিয়েছিলেন গান্ধীজী
   আন্না হাজারে
   উল্টে দিয়েছিলেন
   চেনা রাজনীতির ছক

   জন শক্তি জন চেতনা,
   কখনো ঝলমলে প্রসাধনী ব্যবহার করে না

    যে জন লোকের সঙ্গে ঘর করে
     সে টেকে, বাকি সব খড়কুটো।
  ‌‌                  ***


কবি পরিচিতি:
আব্দুর রহমান : মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত ভগবানগোলা থানার বেলিয়াশ্যামপুর গ্রামে এক কৃষক পরিবারে  ২ জানুয়ারি,১৯৫৭ সালে জন্ম। পিতা রাহাতুল্লাহ মাতা এহেনুর। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু;  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম .এ পাশ করে বালুটুঙ্গী হাই স্কুলে শিক্ষকতা শুরু। লেখালেখি শুরু স্কুলের পত্রিকায়। কবিতা, গল্প ,প্রবন্ধ লেখক। প্রদর্শিকা, 'আবার এসেছি ফিরে',বিহঙ্গ ,ঊষা, প্রাঙ্গণ, ছায়াপথ, উন্মেষ ,সমকাল,সাতকাহন, কচিপাতা প্রভৃতি সাহিত্য পত্রিকায় লেখালেখি করেন। 'প্রদর্শিকা' দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে। এ পত্রিকার সঙ্গে অতোপ্রত জড়িয়ে আছেন কবি। প্রদর্শিকা পত্রিকায় মূলত প্রবন্ধে লেখেন।'সীমানা ছাড়িয়ে'(২০১৮),'শব্দেরা মেঘগামী'(২০২০), 'স্বর্ণালী শব্দ তরী('২০২১),'কবিতারা কথা বলে'(২০২২)'কবিতা সংকলন'(কচিপাতা -২০২১),'কাব্যপত্র'(১৪২৭) প্রভৃতি কবিতা সংকলন গ্রন্থে কবিতা প্রকাশিত হয়েছে কবির। কাব্যগ্রন্থ 'শূন্য অন্ধকার ' ২০২৪, 'দ্বি-বর' (২০২৫) গল্প সংকলন প্রকাশিত।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url