উমর ফারুক - এর গুচ্ছ কবিতা
তোমার বর্ণিল আয়োজন
উমর ফারুক
ও চাঁদ,
তোমার বর্ণিল আয়োজনে
আকাশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি
সীমাহীন আনন্দ
নির্ঘুম চোখ
উদার ও প্রশস্ত বক্ষের ঠিকানায়।
তোমার প্রদিপ্তয়
নির্মল জোছনায়
উষ্ণ গহ্বরে হারিয়ে গেলে
সেই সব প্রেমের সংকীর্তন লিখে রেখো
যেমন একটি তীর্যক রাত
ভোর কে করে আলিঙ্গন।
আহা কি সুন্দর প্রহর!
তোমার বর্ণিল আয়োজনে
পৃথিবী তাঁর মুখ তুলবে।
একটি শহরের বিবরণ
উমর ফারুক
সেখানে একটি চোখ বুজে আছে
বিস্মিত হয়ে যাওয়ার পর
দেখা গেলো সাগরের ঢেউ হৃদয়ে!
স্ব লজ্জে মুখ ঢাকা ,
এক দুর্গম নগরে বন্দরে ভাসে —
সীমান্তের ধারে ধারে দেয় উঁকি ।
সবুজের বুক চিরে গেলে
দেখো, সেই নগরের প্রিয় অচেনা মুখ।
যানজট ছাড়া তুমি একা-
পাবে বন্ধু তোমার প্রিয় বাংলার মাঠ
সবুজ গাছ আঁকা বাকা কাঁচা পথ।
তারুণ্যের হাতছানি,
ভোরের কুয়াশায় ঢেকে থাকা
সবুজ গাছের ডালে পাখি
সন্ধ্যার লাবণ্যে রক্তিম সূর্য দেবে শুভেচ্ছা।
বাধা রবে দু' পায় মায়ার এক জিঞ্জির।
শেকল খুলে বেরিয়ে এলে তুমি
এক নিষ্ঠুর ফুটো শহরের শিকার।
সাত চল্লিশ
উমর ফারুক
ধূসর কুয়াশায় হারিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাস ফেলে কৃত্রিম মানব
সভ্যতার বিষধর সাপ যখন জীবিত ছিল
মানুষ তখন হারিয়ে গিয়েছে অলীক কল্পনায় ।
বাড়িয়ে দিয়েছে দু'হাত
মানুষ অদৃশ্য সংকট কিনে এনেছে
আপন শো'বার ঘরে
হয়ত বহু বছর পর বেঁচে থাকবে ইতিহাস
উপত্যকায় পার বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে সূর্য
লাল আগুনের লেলিহান শিখায়
ফ্যাকাশে আকাশ জুড়ে বিচ্ছিন্ন মেঘের আড়ালে লুকিয়ে আছে পেঁজা তুলো;
সাত মহাদেশের পৃথিবীর সব জল শুকিয়ে
মৃত্যু পুরীর একটি ছোট্ট ভূখন্ডে
আমরা অপেক্ষা করছি সেই রকম
একটি রহস্যময় প্রভাতের
যেই রকম অপেক্ষা করেছিল
সাতচল্লিশের সর্বত্যাগী বিপ্লবীরা।
