গোলাম রসুল - এর দুটি কবিতা

 







আমার মেদের উপর বসে আছে একটি মহামারী
গোলাম রসুল

আমি সূর্যে বরফ বিক্রি করা এক ফেরিওয়ালা
আমার মেদের উপর বসে আছে একটি মহামারী
এবং আমার প্রায়ত যৌবনের উপরে গড়ে উঠেছে হলুদ শহর

যেখানে গ্ৰহগুলোর আড্ডাখানা
এবং একটা অসুখওয়ালা গ্ৰহ বমি করছে একটা পর একটা জীবন

পাশের মূর্তিটি গিলে ফেলছে তার একাকিত্ব

দুধের ট্রাক আর তেলের জাহাজের সন্ধিস্থলে শৈশবগুলো ফেনা তুলছে

অববাহিকায় শকুনদের লাইটহাউজ

মেঘ ভর্তি যুদ্ধের অস্ত্র

কাগজে আঘাত পাওয়া সংবাদ টুকরোগুলো চড়ুইয়ের মতো উড়ছে
আর সাদা বইয়ের ধাক্কায় আকাশের ওই জায়টায় অনেকটাই ভেঙে গেছে

ওখানে গুহার মধ্যে প্রাচীন মুদ্রার মতো লুকনো রয়েছে মানবতা
 



উন্মাদ রাত্রি যার তুলনা আমি কোনো রাত্রির মধ্যে দেখেনি
গোলাম রসুল


উন্মাদ রাত্রি যার তুলনা আমি কোনো রাত্রির মধ্যে দেখেনি

সমুদ্র গভীরের এক জানলা খোলা
প্রবালের সারির মতো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের রৌদ্রোজ্জ্বল বিদ্রোহ

বাজ খড়ি দিয়ে একটি ধ্বংসের রেখা টানছে
আর আমার ঘুঘুরা মুছে দিচ্ছে

মিনারের আলোর সাথে সংযুক্ত হয়েছে স্বর্গের আলো আর দেখা যাচ্ছে একটার পর একটা মহাশূন্যের তোরণ

সমুদ্র শামুকের মুকুট

দেয়ালের ওপারে আতঙ্ক
মেঘ তার প্রচন্ড বিদ্যুৎসহ ঝাঁপাচ্ছে বালির উপরে

সত্যি কি পৃথিবীর আলো রচিত হয়েছে চিড়িয়াখানার বিষণ্ণ আলোর উৎস থেকে
আর চাঁদ বুক পেতে আছে

মহাসমুদ্রের তীরে হাতে লণ্ঠন নিয়ে এক পিতা তাকিয়ে রয়েছে নৌকার মতো

জ্বলন্ত মেঘে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে ফেরিওয়ালা
প্রতিহত করো নক্ষত্র

উন্মাদ রাত্রি যার তুলনা আমি কোনো রাত্রির মধ্যে দেখেনি
        

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url