সাদ সামিন হোসেন - এর একগুচ্ছ ছড়া
সঠিক পথে চল্
সাদ সামিন হোসেন
(গ্ৰাম - বাগিড়াপাড়া, রসুলপুর, নবগ্ৰাম, মুর্শিদাবাদ )
থামবো না কো চলতে পথে
ভাঙবো বাধা সবার মতে
বাঁধবো নতুন ঘর
সাগর, পাহাড়, আঁধার ভূমি
রপ্ত করো সঙ্গে তুমি
আমরা যে লস্কর।
এক সাথে যাই বীরের মতো
ঘটবে বিনাশ 'তার' উদ্ধত
উঠ্ রে জগদ্দল
শক্ত হাতে ধরবো রে হাল
সময় বুঝে তুলবো রে পাল
সঠিক পথে চল্।
সামনে এলে পাষণ্ডরা
'ঐক্য'— মনে বাঁধবি তোরা
আসবে বিজয় ছুটে
ঘুম ভেঙে চল্ অস্ত্র হাতে
থাকলে আঁধার ঘোর প্রভাতে
সূর্য যেথায় উঠে।
জ্বালবো আগুন,লড়বো এবার
যাত্রী সকল ইহবে রে পার
ভাঙবে না কো তরী
বাঁধবো মনে শক্ত রশি
চলবো পথে অঙ্ক কষি
এক সাথে পণ করি।
বীভৎস আজ বিশ্বখানা,
নৃশংসরা দিচ্ছে হানা
টটস্থ লোকজন
আর দেরি নয়, নাই কো সময়
বজ্রনাদে থাকবে না ভয়—
করলে নিবন্ধন।
চল্ রে সবাই —জ্বাল রে আগুন
কাণ্ডারী যে —তার কথা শুন
করবো শপথ আই
ছাড় সকলে হিংসা -নীতি
গড়বো সবে সুসম্প্রীতি
বক্ষে দিব ঠাঁই।
স্বজন পোষণ বর্জিত হোক
কাঁধছে দেশে নির্মম লোক
ঝরছে চোখে জল
আজ প্রয়োজন উচ্চ স্নেহ
আই ছুটে আই থাকলে কেহ
হোক স্বদেশ উজ্জ্বল।
ভুতুর ছড়া
সাদ সামিন হোসেন
ডাকছে কুকুর ছুটছে চোর
রাত পেরিয়ে আসছে ভোর।
উঠবে রবি ছুটবে আলো
শীতের সকাল হয় ঘোরালো।
ভোরের পাখি করছে রব
প্রত্যুষে হয় মহোৎসব।
গ্ৰামের মানুষ যায় মাঠে আর
ছোট্টো নাও-এ হয় পারাপার।
তরীর চালক দিচ্ছে পাড়ি
কৃষক সাঁঝে ফিরছে বাড়ি।
শেয়াল ঝোপে ঘুমায় দিনে
ডাক যেন তার সবাই চিনে।
ভক্ত কুকুর, ধূর্ত কাক
পার্বনে লোক বাজায় ঢাক।
জ্যোৎস্না রাতে চাঁদের হাসি
ঐক্যে থাকে গ্ৰাম্যবাসি।
নদীর জলে খেলছে বালক
গান ধরেছে নৌকা চালক।
নন্দিনীরা তুলছে বকুল
বর্ষা-বানে ডুবছে দু'কূল।
ধ্বংস করে বন্যা এসে
ঘর, বাড়ি সব যাচ্ছে ভেসে।
বিকেল বেলায় খেলার পরে
এক সাথে সব ফিরছে ঘরে।
অম্বর হতে ঝরছে বাদল
আনন্দে লোক বাজায় মাদল।
একলা আমি
সাদ সামিন হোসেন
পথের ধারে গাছের সারি
মুক্ত আকাশ নীল
চাতক পাখি উড়ছে মেঘে
ঘুরছে শকুন, চিল।
গ্ৰামের মানুষ যাচ্ছে মাঠে
ঐক্যে দলে দলে
নদীর বুকে নাবিক স্রোতে
নৌকা নিয়ে চলে।
ফুটছে কুসুম গাছের শাখায়
আসছে মধুকর
সরস নিয়ে ফিরবে তারা
হর্ষে আপন ঘর।
পছিম হাওয়ায় দুলছে বাবুই
লম্বা তালের গাছ
নদীর তীরে মৎসজীবী
ধরছে জালে মাছ।
শান্ত নিবাস, বিস্তৃত পথ
স্নেহার্দ্র সব লোক
তাদের গড়া নিত্য জীবন
অমৃত, সার্থক।
তরঙ্গতে রবির ছটা
পড়ছে আকাশ থেকে
একলা আমি নীরব মনে
লিখছি ব'সে দেখে।
প্রত্যাশা
সাদ সামিন হোসেন
ঘুম ভাঙা পুষ্পের বিকশিত হয় ঘ্রাণ
কলুষিত অসমাজে বিপ্লবে জাগে প্রাণ।
দল বেঁধে চলো সবে এক সাথে সভা করি
জ্যোৎস্নার মোহ রাতে খেলা করে বনপরী।
শিশুদের পাঠ যদি মঞ্জিলে দাও ঠিক
শূদ্রের বিমোহিতে আলো হবে চারিদিক।
অপহৃত লোকগুলো হয়েছিলো বিভাজিত
কর্মঠ মহা কাজে দুর্জয়ী, নয় ভীত।
সক্রিয় ভাবে যায় দল বেঁধে মধুকর
ডালে ডালে গড়ে তারা সুনিপুণ বাড়ি-ঘর।
তারাগুলো ভাসিতেছে— সীমাহীন মহাকাশ
অজানা ও দূর দেশে কে যে করে বসবাস!
উপভোগ নয় শুধু মানবের এ জীবন
শিশুদের তরে রাখো যাহা কিছু প্রয়োজন।
অমৃত স্বাদে হোক নিখিলের পরিচয়
বসুমতী বিস্তৃত,অকপট সহৃদয়।
কশেরুকা ভাঙে যদি দুঃস্থ এ পৃথিবীর
হিম্মতে অবনীতে রুধিবে তা এসে বীর।
'দিশাহীন' নিশিরাতে তুফানের স্রোতে ঘুরে
বুক পেতে আসিতেছে কাণ্ডারী ওই দূরে।
অনুরাগ
সাদ সামিন হোসেন
ফুলের গাছে গন্ধ নিতে
যেই ব'সেছি গিয়ে
মৌমাছিরা ডাকছে আমায়
পত্র -ফুকর দিয়ে।
উদ্যান হলো তাদের স্বরাজ
গড়বে মধু রসে
সঙ্গ নিয়ে ঐক্যে গিয়ে
ভৃঙ্গ ফুলে বসে।
আস্বাদনে জীবন ধারায়
থাকছে অভেদ মন
ভৃঙ্গ রাখে চলতে তাদের
সঙ্গতি, বন্ধন।
মানুষ কেন অহিংস নয়
বিস্তৃত তার ভেদ
নিবন্ধনে থাকছে না কেউ,—
দীর্ঘ অনুচ্ছেদ।
বসুন্ধরায় রিক্ত প্রণয়
মৃন্ময়ে তার ভাগ
মনুষ্যকুল সিক্ত হবে
থাকলে অনুরাগ।
